কল্পবিজ্ঞান বিজ্ঞান নয়, মূলত কল্পকাহিনি। আর জুল ভার্নও কোনো বিজ্ঞানী ছিলেন না, তবু তার বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনা বিজ্ঞানেরই সমতুল্য। ঊনবিংশ শতাব্দীর এক ফরাসি লেখক, যিনি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন কল্পবিজ্ঞানের জগতে। তার জন্ম হয়েছিল ১৮২৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, ফ্রান্সের পশ্চিমে বিস্কে উপসাগরে এক ব্যস্ত বন্দর নগর ‘নান্তেস’-এ।
জাহাজের আসা-যাওয়ার দৃশ্য ছিল জুল ভার্নের শৈশব-কৈশোরের নিত্যদিনের অংশ, হয়তো এ দৃশ্যই তার ভ্রমণ কল্পনাকে করেছিল প্রসারিত। ১২ বছর বয়সে জাহাজে কেবিন বয়ের চাকরি নিয়ে পালিয়ে যেতে গিয়ে ধরা পড়েন মায়ের হাতে। সে থেকে ভেবেই নিয়েছিলেন তার অভিযানগুলো হবে কল্পনাতে। অভিযানের রোমাঞ্চ সৃষ্টি হবে কলমে-কাগজে। আর তাই বোর্ডিং স্কুলে থাকাকালেই জুল ভার্ন শুরু করেন ছোটগল্প ও কবিতা লেখা।
জুল ভার্নের পিতা পিয়েরে ভার্ন ও মা সোফি এলো দে লা ফুয়ে। পিতা ছিলেন সেখানকার নামকরা আইনজীবী। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান হওয়ার কারণে আইনজীবী পিতার ইচ্ছাপূরণের ভার বর্তায় জুল ভার্নের ওপরই এবং তাকেও আইন বিষয়ে পড়াশোনা করতে পাঠানো হয় প্যারিসে।
কিন্তু প্যারিসে গিয়ে জুল ভার্নের সাহিত্যপ্রেমে যেন আরও দোলা লাগে! পড়াশোনার ফাঁকফোকরে জুল ভার্ন আসা-যাওয়া শুরু করেন প্যারিসের বিখ্যাত সাহিত্যের প্রাঙ্গণগুলোতে। সেখানে অনেক সাহিত্যিক-শিল্পীর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। তাই ১৮৪৯ সালে আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করার পরও জুল ভার্ন পারলেন না প্যারিস ত্যাগ করতে, থেকে গেলেন সেখানেই, ভাবলেন আরও কিছু দিন শানিয়ে নেওয়া যাক তার সাহিত্যচর্চাকে।
সাহিত্যাঙ্গনে জুল ভার্নের প্রবেশ ঘটে মঞ্চনাটক রচয়িতা হিসেবে। তার প্রথম নাটকটি ছিল একটি একাঙ্কিকা ‘ব্রোকেন স্ট্রোস’। এরপর প্রকাশ পায় তার প্রথম গ্রন্থ ‘দ্য ১৮৫৭ স্যালন’। ১৮৫৯ সালে জুল ভার্ন ও অনরাইন ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে একটি জাহাজযাত্রায় শামিল হন।
জুল ভার্নের প্রথম লেখা উপন্যাস ‘ফাইভ উইকস ইন এ বেলুন’র কাহিনি অবাস্তব বলে কোনো প্রকাশকই তা প্রকাশ করতে চাননি। ক্ষোভে-দুঃখে একদিন পাণ্ডুলিপি আগুনে পুড়িয়ে ফেলতেও চেয়েছিলেন জুল ভার্ন, পরে তার স্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা রক্ষা পায়।
এই বইয়েরই সিক্যুয়েল হিসেবে আমরা পেয়েছি আরেক জগদ্বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য মিস্টিরিয়াস আইল্যান্ড’ দেখা পাই ক্যাপ্টেন নিমো আর হার্ডিংয়ের, দেখা পাই সেই ডুবোজাহাজ নটিলাসের। ১৯০৫ সালের ২৪ মার্চ তিনি মারা যান।
সময়ের আলো/এআর