চাঁদপুরের ধনাগোদা নদীর ওপর নির্মিত মতলব সেতুর এক্সপানশন জয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভারী যান চলাচলের সময় সেতুতে কম্পন অনুভূত হচ্ছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন গাড়িচালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সেতুর ফাটল ক্রমেই বড় হচ্ছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সময় পার করছেন তারা।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিনুর রহমান বলেন, এটি কোনো কাঠামোগত ফাটল নয়। সেতু নির্মাণের নিয়ম অনুযায়ী দুটি স্প্যানের মাঝখানে এক্সপানশন জয়েন্ট রাখা হয়। তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে এই ফাঁকা জায়গা ছোট বা বড় হতে পারে যা শীতকালে বেশি দৃশ্যমান হয়। এক্সপার্ট টিম পরিদর্শন করেছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান প্রকৌশলী মো. শাহিনুর রহমান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে নির্মিত হয় এই মতলব সেতু। সেতু চালু হওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতি বছরই সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের বালুমাটি ধসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। গত বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ধসের পর বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে চলছে সংস্কার কাজ। এদিকে গত বছরের নভেম্বরে সারা দেশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সেতুর ৭টি স্প্যানের মধ্যে মাঝখানের দুটি স্প্যানের এক্সপানশন জয়েন্টের ওপর থেকে বিটুমিন খসে পড়ে। পরে ওই স্থানে ফাটল দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক্সপানশন জয়েন্টে ফাঁকা স্থান তৈরি হওয়ার পর থেকে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুতে কম্পন অনুভূত হচ্ছে। পাশাপাশি সঠিকভাবে সংস্কার কাজ না করায় সেতুর দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কের গোড়ার দিকের মাটি ও বালু সরে গিয়ে বারবার বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, সেতুর মাঝখানে ফাঁকা জায়গা দেখে ভয় লাগে। ভারী গাড়ি গেলে কাঁপে। আগে ফাটলের জায়গাটা ছোট ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে ফাটল বড় হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ঠিক না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সিএনজিচালক সফিক হোসেন বলেন, ভূমিকম্প হওয়ার পর থেকে সেতুর মাঝখানে ফাটল তৈরি হয়। আগে ছোট থাকলেও এখন বড় হয়ে গেছে। ভারী যানবাহন গেলে সেতু কেঁপে ওঠে। আমরা ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে এখানে গাড়ি চালাই। অনেক দিন হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও সেতু মেরামত করা হয়নি।
সময়ের আলো/এনএ