প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৫ এএম
ফাইল ছবিআসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এভাবে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা তীব্রতর আকারে অব্যাহত থাকায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী শঙ্কিত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ এক বিবৃতিতে জানান, গত ডিসেম্বর মাসে কমপক্ষে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৫১টি। এর মধ্যে হত্যা ১০টি, চুরি ও ডাকাতি ১০টি, বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-মন্দির ও জমিজমা দখল, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ২৩টি। ধর্মীয় অবমাননা ও র-এর দালালের মিথ্যা অভিযোগে আটক ও নির্যাতন ৪টি, ধর্ষণ চেষ্টা ১টি, দৈহিক নির্যাতন ৩টি।
তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেও সহিংসতার ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে গত ২ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সত্যরঞ্জন দাসের ৯৬ শতক জমির ধান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি শরীয়তপুরে কুপিয়ে ও শরীরে আগুন দিয়ে ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে হত্যা করা হয়েছে। একই দিন ভোরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মিলন দাসের বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে সেখানে ডাকাতি করা হয়েছে। একই রকমের ঘটনা ঘটেছে একই দিন কুমিল্লার হোমনার সানু দাসের ঘরে, যেখান থেকে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, ১২ ভরি রুপা ও ২০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি শুভ পোদ্দার নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মুখ বেঁধে তার দোকান থেকে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। একই দিন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৪০ বছরের এক হিন্দু বিধবা নারীকে ধর্ষণ করে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্নপূর্ণা দেবনাথ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যথাযথ দায়িত্ব পালনের কারণে তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ও ইস্কনের সদস্যের ট্যাগ লাগিয়ে তাকে তার দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি তুলেছে ধর্মান্ধ দুর্বৃত্তরা। একই দিন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার বাড়েয়া গ্রামের সন্তোষ কুমার রায়ের বাড়িতে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে স্থানীয় এনসিপি নেতা এম. এ. তাফসীর ও তার সহযোগী মঞ্জুরুল আলম পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি যশোরের মণিরামপুরের বরফকল ব্যবসায়ী ৩৭ বছর বয়স্ক রানা প্রতাপ বৈরাগীকে দুর্বৃত্তের দল তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করেছে। একই দিন নরসিংদীর পলাশে মুদি দোকানি মণি চক্রবর্তীকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুষ্কৃতকারীরা। এ রকম লোমহর্ষক ঘটনা এরই মধ্যে আরও অনেক ঘটেছে সারা দেশে, যার সম্পূর্ণ তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তীব্রতায় গভীর ক্ষোভ, উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে বলেছে এসব ঘটনায় সারা দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ভবিষ্যতের অজানা আশঙ্কায় ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে ভোটদানে সংখ্যালঘুরা ইতিমধ্যে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। পরিষদ মনে করে আগামী নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানে জোরপূর্বক বিরত রাখার জন্য সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তমহল এসব ঘৃণ্য কার্যকলাপ অব্যাহতভাবে সারা দেশে চালিয়ে যাচ্ছে। অনতিবিলম্বে তা রোধে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি পরিষদ জোর দাবি জানিয়েছে।
সময়ের আলো/এনএ