বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট দিল শিক্ষার্থীরা। নানা ধরনের শঙ্কা থাকলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হয়েছে গণনা। মঙ্গলবার জকসু নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সংকট কাটিয়ে নতুন দিনের সম্ভাবনায় আশাবাদী তারা। এর আগে জগন্নাথ কলেজ থাকাকালে ১৯৮৭ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ৬টি ওএমআর মেশিনে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা শুরু হলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পরে তা স্থগিত হয়ে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হল সংসদের ভোট গণনা এখনও শুরু হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া হল সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ শতাংশ। জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি প্রদর্শন, আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ তোলে ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্যানেল। এর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলে বেলা ৩টা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রে যেসব শিক্ষার্থী ঢুকতে পেরেছেন ৩টার পর কেবল তারাই ভোট দিতে পেরেছেন। এ নির্বাচনে ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছে।
জানা যায়, এবার একজন ভোটারকে ২১টি করে ভোট দিতে হয়। ভোটগ্রহণ হয় ওএমআর ফরমে, তিন পাতার ব্যালটে। এরপর ৬টি গণনা মেশিনে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে শুরু হয় ফলাফল গণনা। ফলাফল ঘোষণা করা হবে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে। ভোট গণনা সরাসরি দেখানো হচ্ছে ৩টি এলইডি স্ক্রিনে।
আর ভোট গণনায় প্রথমে ব্যালট পেপার ম্যানুয়ালি স্ক্রিনিং করে দেখা হয়। ব্যালটে ক্রস চিহ্ন ছাড়া অন্য চিহ্ন তা বাতিল হিসেবে গণ্য হয়। ক্রস ছাড়া অন্য কোনো চিহ্ন কোনো প্রার্থী নামের পাশে থাকলে ওই পদের ভোটটিও বাতিল হয়। তবে নির্বাচনে ভোট গণনা সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও রাত সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে মেশিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা আবার স্থগিত হয়। এদিন কড়া নজরদারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং সাংবাদিকরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন।
বিলম্বে ভোট গণনা শুরু হওয়ায় বিপত্তি : জানা গেছে, নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট শেষে গণনা করতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। গণনার নির্ভুলতা যাচাই করতে গিয়ে একটি ভোটে গড়মিল হওয়ায় ভোট গণনার কাজ থমকে আছে দুই ঘণ্টা ধরে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় রাত ৯টায় নির্বাচন কমিশনার ও আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, একটা সমস্যায় পড়েছি, সমাধানের পথ খুঁজছি। আমরা যে সমাধান দেব, আশা করি সবাই সেটা পছন্দ করবে।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও একটি হলের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে সব ব্যালট বাক্স নিয়ে আসা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছয়টি ওএমআর (অপটিকাল মার্ক রিকগনিশন) মেশিনে সেখানে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা শুরু হয়। কিন্তু মিলনায়তনে ভিড় বেড়ে গেলে ১৫ মিনিট পর গণনার কাজ থামিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের বের করে দিয়ে আধা ঘণ্টা পর ফের গণনা শুরু হয়। কিন্তু এরপর গড়মিল ধরা পড়লে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আবারও থমকে যায় গণনার কাজ। রাত ৯টা পর্যন্ত সেই কাজ আর শুরু করা যায়নি।
জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস : সরেজমিন দেখা যায়, পুরো নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকেই লাইন ধরে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি আরও বাড়ে। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। সকাল সোয়া ৮টার দিকে ক্যাম্পাসে পোলিং এজেন্ট ও প্রার্থীরা প্রবেশ করেন। ভোট দিয়ে যা নির্বাচনি পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গেট দিয়ে নিজেদের পাস কার্ড প্রদর্শন করে প্রবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। ভোট প্রদান শেষে শিক্ষার্থীদের ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। ভোট ঘিরে তাদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ শিক্ষাঙ্গনে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তবে শেষ সময়ে ভোট দিতে এসে কেউ কেউ ভেতরে ঢুকতে না পারায় তাদের কণ্ঠে ছিল আফসোসের সুর। ক্যাম্পাসের ভেতরে-বাইরে অনেকেই আড্ডায় মেতে উঠেন। ভোট দিয়ে এসে অনেকেই একে অন্যকে জড়িয়ে ধরেন, কেউ কেউ অমোচনীয় কালি লাগানো আঙুলের ছবি তুলেন, আবার কেউ গ্রুপ ছবি তুলে স্মরণীয় মুহূর্ত ধরে রাখেন। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
সরেজমিন শহিদ সাজিদ ভবন, রফিক ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। নির্বাচন একাধিকবার পিছিয়ে গেলেও আগ্রহ কমেনি শিক্ষার্থীদের। উৎসবমুখর পবিবেশে ভোট দিতে পেরে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রথমবারের মতো জকসু নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে মহাখুশি তারা। প্রথমবারের নির্বাচন নিয়ে আগে কিছুটা সংশয় থাকলেও সবমিলিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন শেষ হয়েছে।
ক্যাম্পাসে জীবনে প্রথমবার ভোট দিয়ে কেউ কেউ বলছেন, তাদের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন, প্রার্থীরা তাদের এ ভোটের যথাযথ মর্যাদা দেবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলায় নারী শিক্ষার্থীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন বলে জানান।
বাংলা বিভাগের প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থী সাদমান সাকিন সময়ের আলোকে বলেন, জীবনে প্রথমবার ভোট দিলাম। সেই-ই আনন্দ। এ এক অন্যরকম আনন্দ, অন্যরকম অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী : জকসু নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটকেন্দ্রসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা।
বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে রাত থেকেই প্রবেশ গেটে বিশেষ পাহারা বসানো হয়। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস সদস্যরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিশেষ কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্য তিন স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, গণিত বিভাগে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে, রসায়ন বিভাগে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে, ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে, মনোবিজ্ঞান বিভাগে সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ : জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি প্রদর্শন, আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ তোলে ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্যানেল।
সংবাদ সম্মেলনে এ প্যানেলের ভিপিপ্রার্থী কিশোর আনজুম সাম্য বলেন, ভোটার সিøপে ব্যালট নম্বর লেখা রয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণ চলাকালেও গেটের সামনে প্রচার চালানো হচ্ছে এবং সমাজকর্ম বিভাগের ১০২ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জকসু ও হল সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে ভোট জালিয়াতি ও বৈষম্যের গুরুতর অভিযোগ তুলেন ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান’ প্যানেল। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলটির ভিপিপ্রার্থী একেএম রাকিব এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন যে, ভোটগ্রহণ চলাকালে একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের কয়েকজন প্রতিনিধিকে ব্যালট নম্বরের বিশেষ টোকেন নিয়ে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিক উপস্থিত নির্বাচন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও শুরুতে কমিশন থেকে বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করা হয়।
ভাষাশহিদ রফিক ভবনের নিচতলায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অদম্য জবিয়ান প্যানেলের ভিপিপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ভোট শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাত্রদলের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। এ সময় আমাদের প্যানেলের কর্মীরা ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে গেলে হেনস্থার শিকার হন।
তিনি বলেন, পদার্থবিজ্ঞান, দর্শন ও ইংরেজি বিভাগে ছাত্রদলের পোলিং এজেন্টরা শিক্ষার্থীদের নিজ প্যানেলে ভোট দিতে প্ররোচনা দেয়। কোথাও কোথাও জোরপূর্বক ভোটার সিøপ কেড়ে নেওয়া হয়। বাধা দিলে হুমকি ও মারধরের অভিযোগও রয়েছে।
ভিপিপ্রার্থীর স্ত্রীকে হেনস্থার অভিযোগ : এদিন শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপিপ্রার্থীর স্ত্রীকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীর নাম মহিমা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী ও শিক্ষার্থী মাহিমা বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলাম তখন ছাত্রদলের ভাইয়েরা এসে আসাকে হেনস্থা করে। সঙ্গে আমার এক আত্মীয় ছিল। আমরা গেটের বাইরেই অবস্থান করছিলাম। এ সময় আমি হিজাব পরিহিত থাকায় আমাকে হিজাব ও মাস্ক খুলতে বলে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপিপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, তিনি আমার স্ত্রী ও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বাইরে আমাদের প্যানেলের হয়ে কাজ করছিলেন।
এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে জকসু নির্বাচন সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রইছ উদ্দিন। তিনি বলেন, ছোটখাটো কিছু অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও মোটের ওপর একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রইছ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ যে নতুন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল, সেই চেতনাই নির্বাচনি আচরণে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। নির্বাচনে পক্ষ-বিপক্ষ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দিন শেষে সবাইকে ভোটার হিসেবে স্বাগত জানানোর মানসিকতা থাকতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়- মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র পদে ৪ জন, শিক্ষা ও গবেষণা পদে ৯ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৫ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৫ জন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে ৪ জন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ৮ জন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৭ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৭ জন, পরিবহন সম্পাদক পদে ৪ জন, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে ১০ জন, পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ৭ জন এবং সদস্য পদে ৭ জনের বিপরীতে ৫৭ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ছাত্রী হলে ১৩ পদের মধ্যে- সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৩ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৩ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২ জন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ২ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৪ জন, পাঠাগার সম্পাদক পদে ২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ২ জন, সমাজ সেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে ৩ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদকে ৪ জন এবং ৪টি সদস্য পদের বিপরীতে ৮ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে হল সংসদে।
গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে জকসু নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুনরায় ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
সময়ের আলো/এনএ