পড়ে আছে ৮০ কোটির ট্রেনিং সেন্টার

এম মোফাজ্জেল, বরিশাল

বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারটি দীর্ঘ তিন বছরেও চালু

2026-01-08T00:19:58+00:00
2026-01-08T00:19:58+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
পড়ে আছে ৮০ কোটির ট্রেনিং সেন্টার
এম মোফাজ্জেল, বরিশাল
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৯ এএম 
আইটি সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকায় নির্মিত আইটি ট্রেনিং সেন্টার কোনো কাজেই আসছে না। ছবি : সময়ের আলো
বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারটি দীর্ঘ তিন বছরেও চালু হয়নি। সরকারের নিজস্ব অর্থে ডিজিটাল সংযোগ (ইউডিসি) প্রকল্পের আওতায় বরিশাল জেলায় প্রকল্পটির কাজ ২০১৭ সালে শুরু হয়। ২০২২ সালে এটি উদ্বোধন করা হলেও এখন পর্যন্ত এর কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

ফলে প্রায় তিন বছর ধরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। এতে নষ্ট হচ্ছে ভেতরে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জাম। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা আইটি ট্রেনিং সেন্টারটি চালু না হওয়ায় শুধু এলাকাবাসী নয়, হতাশ আইটি বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষা কর্মকর্তারাও। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন বলছে, এটি চালু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

আইটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে দুই হাজার দক্ষ আইটি উদ্যোক্তা তৈরি হওয়ার কথা ছিল। দক্ষিণাঞ্চলের যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং, ২-ডি ও ৩-ডি অ্যানিমেশন, জাভা প্রোগ্রামিং, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ই-কমার্স কন্ডাক্টিংসহ প্রযুক্তিনির্ভর উন্নতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখারও কথা ছিল। বিভিন্ন সেক্টরে প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণরতদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ফ্রিল্যান্সিংসহ পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল। এখান থেকে ট্রেনিং শেষ করে মেধার ভিত্তিতে দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতো অনেকের। কিন্তু এটি চালু না হওয়ায় সব আশা ভঙ্গ হয়ে গেছে। 
 
এ বিষয়ে বিডি নেট ওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের অন্যতম ভরসার জায়গা ছিল এটি। চালু হলে তরুণ শিক্ষিত জনবল এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের ভালো সুযোগ তৈরি হতো এটি। কিন্তু যে আশা আর পরিকল্পনায় এটি তৈরি হয় আমরা তার কোনো ফিডব্যাক পাইনি। প্রথমত এখানে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য একটি প্রকল্প ছিল, যা জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সরকারের একটি উদ্যোগ ছিল। কিন্তু সেটি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। 

পরবর্তী সময়ে সেখানে ইনকিউবেশন সেন্টার প্রকল্প ছিল। সেখানে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করার বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। দুর্ভাগ্যবশত আমরা সেখান থেকেও বঞ্চিত হয়েছি। এর পরিপূর্ণ সুবিধা বরিশালবাসী পাচ্ছে না। তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরা কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্প ফেলে না রেখে তরুণ উদ্যোক্তা ও আইটিতে যারা কাজ করছেন তাদের নিয়ে নতুনভাবে শুরু করতে চাই। সরকারকে নতুন করে উদ্যোগ নিয়ে এটি আবার চালু করার দাবি জানাই। 

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের আইটিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে এসব প্রকল্প চালুর বিকল্প নেই। বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন বলেন, বর্তমান যুগ আইটি ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পাশে যে সেন্টারটি আছে সেই সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে আমাদের কাজ। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩৪৫টির মতো কলেজ রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী পাস করে বের হন। এসব শিক্ষার্থীদের যদি আমরা আইটিতে এক্সপার্ট করতে পারি তা হলে দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারবে। আমরা চাই, সরকারের যে প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার হোক।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আইটি ট্রেনিং সেন্টারটি চালু করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি, সামান্য কিছু কাজ বাকি আছে। সামগ্রিক কাজ শেষ হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এটাকে কার্যকর করার জন্য আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তাদের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। বরিশাল অঞ্চলে আমরা যেন দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিশেষ করে আইসিটি সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারি সেই চেষ্টা আমাদের সবার থাকবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আইটি সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে বরিশালের নতুলাবাদ এলাকায় নির্মাণ শুরু হয় এই আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের। মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে এটি ২০২২ সালে উদ্বোধনও করা হয়। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে আজও তা চালু হয়নি। 

এদিকে চালু না হওয়ার সঠিক তথ্যও দিতে পারছে না কেউ। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কর্মকর্তারা না আসলেও সেখানকার কর্মীরা বলছেন, নির্মাণ কার্যক্রমের সবকিছু সমাপ্ত হলেও কর্মকর্তারা কী কারণে অফিস করছেন না তা তাদের অজানা। প্রকল্প সম্পন্ন হলেও প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এটি নিয়ে সামনে এগোচ্ছেন না বলে জানান আইটি সেন্টারের কর্মচারীরা। 

প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আমাদের এখানে নির্মাণের সব কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এখানে ট্রেনিং শুরু করার জন্য যা যা দরকার ল্যাব থেকে শুরু করে সব ধরনের সরঞ্জামাদি রয়েছে। কিন্তু কর্মকর্তারা ঠিক কী কারণে অফিসিয়াল কাজ শুরু করছেন না এটা তারাই ভালো বলতে পারবেন। এই প্রকল্পের কাজ অনেক দিন আগেই সমাপ্ত হয়েছে। প্রকল্পের যারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছেন তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত সামনে এগোতে দেখছি না। বিভিন্ন মালামাল অযথাই পড়ে আছে। এভাবে পড়ে থাকলে সেগুলো যেকোনো সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে অনেক কিছুই টুকটাক নষ্ট হয়ে গেছে যার খেসারত নিজেদেরই দিতে হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, প্রতি বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন দুই লাখ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং মাদরাসা থেকে আরও ৫০ হাজার শিক্ষার্থী পাস করেন। তাদের বড় একটি অংশই প্রযুক্তির বাইরে থেকে যান।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   ট্রেনিং সেন্টার  বরিশাল  ব্যয়  নির্মাণ 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: