বোহেমিয়ান এক নায়ক

মইনুল হক রোজ

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য ধ্রুবতারা। তাকে বলা হয় ‘চিরসবুজ নায়ক’। তিনি জাফর ইকবাল। তাকে বলা হতো স্টাইলিশ নায়ক,

2026-01-08T01:13:58+00:00
2026-01-08T01:13:58+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
বোহেমিয়ান এক নায়ক
মইনুল হক রোজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:১৩ এএম 
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য ধ্রুবতারা জাফর ইকবাল। ছবি : সংগৃহীত
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য ধ্রুবতারা। তাকে বলা হয় ‘চিরসবুজ নায়ক’। তিনি জাফর ইকবাল। তাকে বলা হতো স্টাইলিশ নায়ক, ফ্যাশন আইকন। একাধারে গায়ক এবং নায়ক জাফর ইকবালের আরও একটি বড় পরিচয়, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন প্রয়াত এই নায়ক। আজ সেই স্টাইলিশ কিংবদন্তি নায়ক জাফর ইকবালের মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯২ সালের এই দিনে মাত্র ৪১ বছর বয়সে অভিমানী এই শিল্পী পাড়ি জমিয়েছিলেন না ফেরার দেশে।

১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে জন্মেছিলেন জাফর ইকবাল। বাড়িতে গান-বাজনার রেওয়াজ ছিল। তার বোন শাহানাজ রহমতুল্লাহ দেশের অন্যতম কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী। বড় ভাই আনোয়ার পারভেজও নামকরা সংগীতজ্ঞ। তিনি ছিলেন সংগীত পরিচালক। ভাই ও বোনের মতো জাফর ইকবালও প্রথমে গানের ভুবনেই যাত্রা করেছিলেন গায়ক হিসেবে।

নায়ক হিসেবে জাফর ইকবালের সিনেমায় অভিষেক হয় ১৯৬৯ সালে। প্রথম সিনেমাটিতে তার নায়িকা ছিলেন কবরী। সিনেমার নাম ‘আপন পর’। সিনেমাটি খান আতাউর রহমান পরিচালনা করেছিলেন। সিনেমাটির ‘যা রে যাবি যদি যা’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তী সময়ে নায়িকা ববিতার সঙ্গে তার জুটি দর্শকনন্দিত হয়ে ওঠে। ৩০টির মতো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেন জাফর ইকবাল ও ববিতা। ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে জাফর ইকবাল ও ববিতা জুটি ছিল এক রাজকীয় অধ্যায়। ববিতার সঙ্গে তার পর্দার রসায়ন আজও দর্শকদের মনে শিহরন জাগায়।

সর্বমোট ১৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জাফর ইকবাল। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কিছু সিনেমা হলো- অবুঝ হৃদয়, ভাই বন্ধু, অবদান, প্রেমিক, সাধারণ মেয়ে, ফকির মজনু শাহ, দিনের পর দিন, বেদ্বীন, অংশীদার, মেঘ বিজলী বাদল, নয়নের আলো, সাত রাজার ধন, আশীর্বাদ, অপমান, এক মুঠো ভাত, গৃহলক্ষ্মী, ওগো বিদেশিনী, প্রেমিক, নবাব, প্রতিরোধ, ফুলের মালা, সিআইডি, মর্যাদা, সন্ধি, বন্ধু আমার, উসিলা ইত্যাদি।

শহুরে রোমান্টিক ও রাগী তরুণের ভূমিকায় দারুণ মানাত জাফর ইকবালকে। তবে সব ধরনের চরিত্রেই তার স্বাচ্ছন্দ্য বিচরণ ছিল। ১৯৭৫ সালে ‘মাস্তান’ ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় জাফর ইকবালকে ওই প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। বাংলা চলচ্চিত্রের স্টাইলিশ নায়কদের মধ্যে অন্যতম জাফর ইকবাল। তবে যতটা না স্টাইলিশ ছিলেন তার চেয়ে বেশি ছিলেন তিনি অভিমানী ও আবেগপ্রবণ। বোহেমিয়ানও ছিলেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে চমৎকার গান গাইতে পাড়া এ অভিনেতা বেশ কিছু ছবিতে গায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

জাফর ইকবাল নায়ক হিসেবে পরিচিতি পেলেও একজন সংগীতশিল্পীই ছিলেন। ১৯৬৬ সালে বন্ধুদের নিয়ে ‘রোলিং স্টোন’ ব্যান্ড গড়েছিলেন। এলভিস প্রিসলি তার খুব প্রিয় ছিলেন। সংগীত পরিচালক ও ভাই আনোয়ার পারভেজের সুরে ‘বদনাম’ ছবির ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’ গানটি দিয়ে প্লেব্যাকে তার অভিষেক হয়েছিল। সুরকার আলাউদ্দিন আলীর সুরে অনেক গান গেয়েছিলেন তিনি। তার গাওয়া শ্রোতাপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারও ঘরনী’, ‘তুমি আমার জীবন, আমি তোমার জীবন’, ‘যেভাবে বাঁচি বেঁচেতো আছি’, ইত্যাদি।

আশির দশকে ‘কেন তুমি কাঁদালে’ শিরোনামে তার একটি অডিও অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ২৫ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে ‘এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কী আছে’ গানটি গেয়েছিলেন জাফর ইকবাল। পরে রফিকুল আলমও এই গানটি গেয়েছিলেন।

ব্যক্তিজীবনে জাফর ইকবাল ছিলেন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও অভিমানী। অনেকটা বোহেমিয়ান জীবনযাপন করতেন তিনি। ১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি নানা জটিলতায় ভুগে এই নায়ক শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মাত্র ৪১ বছর বয়সে তার চলে যাওয়া ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের অপূরণীয় ক্ষতি।

জাফর ইকবাল নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া গান, ফ্যাশন স্টাইল আর রুপালি পর্দার সেই চিরসবুজ হাসি আজও অমলিন। বাংলা সিনেমা যতদিন থাকবে, জাফর ইকবাল তার ক্ষুরধার প্রতিভা আর স্টাইলিশ ইমেজে বেঁচে থাকবেন কোটি ভক্তের হৃদয়ে।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   বাংলা  চলচ্চিত্র  ইতিহাস  অনন্য ধ্রুবতারা  জাফর ইকবাল 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: