ওস্তাদ রশিদ খান
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতজ্ঞ। তিনি রামপুর-সহসওয়ান ঘরানার প্রতিষ্ঠাতা ইনায়েত
হোসেন খানের প্রপৌত্র। ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই উত্তর প্রদেশের বুদাউনের
সহসওয়ানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার মামা ওস্তাদ নিসার হোসেন খানের কাছ থেকে
প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি ওস্তাদ গোলাম মুস্তফা খানের ভাগনে।
ছোটবেলায়
গানের প্রতি তার আগ্রহ কম ছিল। তার মামা গোলাম মুস্তফা খান প্রথম তার
মধ্যে সংগীত প্রতিভা লক্ষ করেছিলেন। কিছু সময়ের জন্য তাকে মুম্বাইতে
প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। তবে রশিদ খান তার প্রধান প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন নিসার
হোসেন খানের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে বুদাউনে তার বাড়িতে। তিনি ভোর ৪টা থেকে
কণ্ঠের প্রশিক্ষণের (স্বর সাধনা) ওপর জোর দিতেন।
রশিদকে ঘণ্টার পর
ঘণ্টা স্কেলের একটি নোট অনুশীলন করাতেন। ছোটবেলায় রশিদ এসব পছন্দ না করলেও
তখনকার সুশৃঙ্খল প্রশিক্ষণ পরে তান ও লয়কারীতে তার সহজাত দক্ষতার পরিচয়
দেয়। ১৮ বছর বয়সে রশিদ সত্যিকার অর্থে তার সংগীত প্রশিক্ষণ উপভোগ করতে শুরু
করেছিলেন।
রশিদ খান ১১ বছর বয়সে তার প্রথম সংগীতানুষ্ঠানটি করেন। পরের বছর দিল্লিতে একটি আইটিসি সংগীতানুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন।
১৯৮০
সালের এপ্রিল মাসে নিসার হোসেন খান কলকাতায় আইটিসি সংগীত গবেষণা একাডেমিতে
(এসআরএ) চলে আসেন, রশিদ খানও সেই একাডেমিতে যোগ দেন। ১৯৯৪ সাল নাগাদ তিনি
একাডেমিতে একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে স্বীকৃত হন।
রশিদ খান বিলম্বিত
খেয়ালে তার মামার পদ্ধতিতে ধীরগতির সংগীত পরিবেশন করেছেন এবং সরগম ও সরগম
তানকারী ব্যবহারে ব্যতিক্রমী দক্ষতার বিকাশ করেছেন। তিনি আমির খান এবং
ভীমসেন জোশীর গায়কিশৈলী দ্বারা প্রভাবিত।
তিনি নিজের গুরুর মতো
তারানাতেও একজন ওস্তাদ। কিন্তু সেগুলোকে তিনি নিজের ঢঙে পরিবেশন করেন। তিনি
যন্ত্রের স্ট্রোকভিত্তিক শৈলীর চেয়ে খেয়ালশৈলী পছন্দ করেন, যার জন্য নিসার
হোসেন বিখ্যাত ছিলেন।
তিনি ২০০৬ সালে পদ্মশ্রী এবং সেই সঙ্গে সংগীত
নাটক একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০২২ সালে তিনি শিল্পকলার ক্ষেত্রে ভারত
সরকার কর্তৃক ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মভূষণে ভূষিত
হন। তিনি ভারতীয় ৫০টির অধিক চলচ্চিত্রে গান এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন।
২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি মারা যান।
সময়ের আলো/এসকে/