কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে উত্তর সংগ্রহের প্রস্তুতিকালে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিভাইসসহ ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা শহরের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ গ্রামের আজিজার রহমানের পুত্র আব্দুল লতিফ, খামার নকুলা গ্রামের আহাদুজ্জামানের পুত্র শাহজামাল, কাজীপাড়ার মৃত আবুল কাশেম পুত্র বাবু ইসলাম, বাগডাঙ্গা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের কন্যা জান্নাতুন নাইম, ফুলবাড়ি উপজেলার ভাঙামোড় ইউনিয়নের বোয়ালভির গ্রামের মৃত নাজির হোসেন সিদ্দিকির পুত্র আরিফুজ্জামান সিদ্দিকি, মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাঁশখালি গ্রামের আব্দুল মালেক মৃধার পুত্র হিমেল মাহমুদ, রাজৈর থানার টেকরহাট গ্রামের ইদ্রিস মোড়লের কন্যা চামেলী আক্তার, আরাজিকোমরপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের পুত্র বেলাল হোসেন, চরদামাল গ্রামের ময়নাল হকের পুত্র আনেয়ার হোসেন ও মিনারুল ইসলাম।
এছাড়াও এক প্রক্সি পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসা থেকে ছয়জনকে এবং পরে আরও পাঁচজনসহ মোট ১১জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্রের কপি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় জানায়, আজ (শুক্রবার) বিকেল তিনটা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী, উলিপুর ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৩৮টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় ২৪ হাজার ২৭৪ জন পরীক্ষার্থী।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
এদিকে আটকের ঘটনার পর জেলার অন্যান্য পরীক্ষা কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে বলেও জানা গেছে।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন জাহান লুনা বলেন, থানা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ১১জনকে আটকের বিষয়টি জেনেছি। আটক ব্যক্তিরা থানা পুলিশের হেফাজতে আছে। ওই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানাতে পারব।
এফআর