ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফয়জুল হক বলেন, ‘এমনও হইতে পারে, আমার ভাই হয়তো জীবনে কোনোদিন ইবাদত করার সুযোগ পায় নাই। তবে ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়, আল্লাহ চাইলে তার আগের সবকিছু মাফ করে দিতে পারেন। আমি গল্পের ছলে বলি আপনাদের আনন্দ লাগছে। কিন্তু এটা হতেও তো পারে।’
পরে বক্তব্যটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ Dr. Fayzul Huq The Youth Leader of Bangladesh এ আপলোড করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়।
এদিকে, এই বক্তব্য ঘিরে ঝালকাঠির রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ একে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বিষয়টিকে রূপক ও গল্পের ছলে দেওয়া বক্তব্য বলে মনে করছেন।
তবে এসব বিতর্কের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ড. ফয়জুল হক বলেন, ‘আমার বক্তব্যটি মিসলিড করা হয়েছে। একজন এমপি প্রার্থী হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে হয়। সমাজে দাঁড়িওয়ালা, দাঁড়ি ছাড়া মানুষ, বিড়ি বা সিগারেট খায় এমন মানুষও আছেন। আমি বিশেষ করে দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশে বলেছি—আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় একটি ভোট চাইবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে থাকতে মানুষ ভালো হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ চাইলে তাকে মাফ করতেও পারেন। আমাদের আলেমরা ওয়াজ মাহফিলে ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’—এ ধরনের উদাহরণ দেন। আমি বলেছি, আল্লাহ তাকে মাফ করলেও করতে পারেন।’
ফয়জুল হক আরও বলেন, ‘আমার সম্পূর্ণ ভিডিও আমার ফেসবুক পেজে আছে। পুরোটা দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’
এফআর