ইরানের বিক্ষোভ কি কেবলই সিআইএ-মোসাদ ষড়যন্ত্র

বাধন অধিকারী

ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ ঘিরে আন্তর্জাতিক আলোচনার একটি বড় অংশ ঘুরপাক খাচ্ছে একটি পরিচিত প্রশ্ন কেন্দ্র করে। প্রশ্নটি হলো- এই বিক্ষোভ

2026-01-10T00:29:15+00:00
2026-01-11T02:48:30+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ইরানের বিক্ষোভ কি কেবলই সিআইএ-মোসাদ ষড়যন্ত্র
বাধন অধিকারী
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৯ এএম  আপডেট: ১১.০১.২০২৬ ২:৪৮ এএম
ছবি : এআই জেনারেটেড
ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ ঘিরে আন্তর্জাতিক আলোচনার একটি বড় অংশ ঘুরপাক খাচ্ছে একটি পরিচিত প্রশ্ন কেন্দ্র করে। প্রশ্নটি হলো-  এই বিক্ষোভ কি আদতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নাকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাজানো ষড়যন্ত্র? ইরানের রাষ্ট্রীয় বয়ানের পাশাপাশি বামপন্থি রাজনৈতিক ধারার একাংশের বিশ্লেষণে প্রায়ই দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটিকেই সামনে আনা হয়। আবার পশ্চিমা উদারপন্থী ভাষ্য অনেক সময় এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করে যেন ইরানের জনগণ কেবল ‘স্বাধীনতা-পিপাসু’ আর সমস্যার একমাত্র উৎস ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা। বাস্তবতা আসলে এই দুই চরম অবস্থানের মাঝখানে। বিশ্লেষকদের বড় অংশই বলছেন-  ইরানের বিক্ষোভ না পুরোপুরি বিদেশি ষড়যন্ত্র, না পুরোপুরি বাইরের প্রভাবহীন কোনো অভ্যন্তরীণ ঘটনা বরং এটি এমন এক সংকট, যেখানে দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসন, সামাজিক নিপীড়ন ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, ব্লকেড রাজনীতি এবং ইসরাইলের প্রকাশ্য ও গোপন হস্তক্ষেপ।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকট : কাউন্টার কারেন্টস-এ বিশ্লেষক ভারত ডোগরা স্পষ্ট যুক্তি দেন-  ইরানে আজ যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে; সেখানে মুদ্রার অবমূল্যায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্বের যে ভয়াবহতা; তার বড় অংশের শিকড় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রাজনীতিতে। তার মতে, ওবামা প্রশাসনের সময় স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী ইরান তার প্রতিশ্রুতি পালন করছিল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও তা স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়ে একতরফা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

ডোগরার যুক্তি অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো না থাকলে ইরানে এমন গভীর অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতো না। ফলে আজ যে ক্ষোভ রাজপথে বিস্ফোরিত হচ্ছে, তার সূচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নীতির দায় অস্বীকার করা যায় না। এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে যদি কেবল ‘মানবাধিকার’ বা ‘গণতন্ত্র’-এর ভাষায় বিক্ষোভকে ব্যাখ্যা করা হয় তবে সেটি হবে অসম্পূর্ণ বিশ্লেষণ।

ট্রাম্প ও মোসাদের সমর্থন : এই বিক্ষোভের সময় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশ্য হুমকি ‘ইরানি কর্তৃপক্ষ কঠোর হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত’ এবং ফারসি ভাষায় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে দেওয়া মোসাদের বার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ডোগরা এবং আরও অনেক বিশ্লেষকের মতে, এসব বক্তব্য নিছক সংহতি নয় বরং স্পষ্ট উসকানি। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের শত্রুতা, সামরিক সংঘর্ষ ও গোপন অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই সমর্থনকে মানবিক সহানুভূতি হিসেবে দেখা কঠিন বরং এটি ইরানের বর্তমান সরকারকে দুর্বল করা, ভেতর থেকে অস্থিতিশীলতা বাড়ানো এবং অনুকূল একটি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর কৌশলের অংশ বলেই মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

কিন্তু সব দায় কি বিদেশিদের : এই প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ পাল্টা যুক্তি হাজির করেন সারাহ রাফিয়ি। ফিন্যান্সিয়াল রিভিউতে তিনি লিখেছেন, প্রতিবার ইরানে বিক্ষোভ হলেই যদি সবকিছু সিআইএ বা মোসাদের ষড়যন্ত্র বলে ব্যাখ্যা করা হয়, তা হলে ইরানি জনগণের নিজস্ব ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সংগ্রামকে অস্বীকার করা হয়।

রাফিয়ি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৯ সালের পর থেকেই ইরানে ধারাবাহিক প্রতিরোধ আন্দোলন হয়েছে। নারীদের বাধ্যতামূলক হিজাববিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৯-এর ছাত্র আন্দোলন, ২০০৯-এর গ্রিন মুভমেন্ট, ২০১৭ ও ২০১৯-এর অর্থনৈতিক বিদ্রোহ এবং ২০২২-এর ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন। এই প্রতিটি আন্দোলন বিদেশি ষড়যন্ত্রের আগেই জন্ম নিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতায় দমন হয়েছে। তার ভাষায়, সবকিছুকে ষড়যন্ত্র বললে ‘ইরানিদের নিজস্ব রাজনৈতিক সক্রিয়তা’ মুছে যায়। মানুষ যেন কেবল বাইরের শক্তির পুতুলে পরিণত হয়; যা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

বিক্ষোভের গভীরে কর্তৃত্ববাদী শাসন : ফ্রিদা আফারির বিশ্লেষণ দেখায়, বর্তমান বিক্ষোভের স্লোাগানগুলোতে একটি পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আগের মতো সুসংহত গণতান্ত্রিক বা নারীবাদী ভাষার বদলে এখন শাসকের ব্যক্তিগত প্রতীকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বেশি। নিউ পলিটিক্সে লেখা নিবন্ধে আফারি জোর দিয়ে বলেন, ইরানি শ্রমিক সংগঠন, নারী আন্দোলন, কুর্দি ও অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠী একযোগে ইসলামি প্রজাতন্ত্র, রাজতন্ত্র এবং বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ; তিনটির বিরুদ্ধেই অবস্থান নিচ্ছে। এটি প্রমাণ করে, বিক্ষোভের ভেতরে একটি গভীর সামাজিক-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কাজ করছে, যা কেবল বাইরের উসকানিতে সৃষ্টি হয়নি।

হাসপাতাল, দমননীতি ও ‘রেড লাইন’ ভাঙার রাজনীতি :
সাম্প্রতিক বিক্ষোভে যেটা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, তা হলো চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর রাষ্ট্রীয় হামলা। ফ্রিদা আফারির তথ্য অনুযায়ী, কুর্দি ও লুর অধ্যুষিত ইলাম প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার পর আহতদের যেসব হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, সেখানেও অভিযান চালানো হয়। চিকিৎসাধীন বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করা হয়, কোথাও কোথাও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

সারা রাফিয়ের ভাষ্য- হাসপাতাল সবখানেই রেড লাইন হওয়া উচিত। গাজায় হাসপাতাল আক্রান্ত হলে যদি নৈতিক প্রতিবাদ ওঠে, তা হলে ইরানে একই ঘটনা ঘটলে নীরবতা কোনোভাবেই ন্যায্য হতে পারে না।

এই দমননীতি আন্দোলনের চরিত্রকে আরও কঠোর করে তুলছে। ২০২২ সালের ‘উইমেন, লাইফ, ফ্রিডম’ আন্দোলনের সময়ও অ্যাম্বুলেন্সকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। আহতদের চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল। 

জাতিগত সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক অঞ্চলের ক্ষোভ : ২০২৫-২৬ সালের বিক্ষোভে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তা হলো জাতিগত সংখ্যালঘুদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। কুর্দি সাধারণ ধর্মঘট, বালুচ ও আজারি জনগোষ্ঠীর যুক্ত হওয়া আন্দোলনকে কেবল শহরকেন্দ্রিক বা মধ্যবিত্ত ক্ষোভের গণ্ডি থেকে বের করে এনেছে। এই অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চনা, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় শাসনের অতিরিক্ত কড়াকড়ি এবং বিকেন্দ্রীকরণের অভাব ক্ষোভকে আরও তীব্র করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি সরকার এই অঞ্চলের ন্যায্য দাবি বিকেন্দ্রীকরণ, সাংস্কৃতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার স্বীকার না করে, তা হলে আন্দোলন থামানো যাবে না বরং তা বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতাকে উসকে দিতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের অখণ্ডতার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

‘সবই ষড়যন্ত্র’ বয়ান : প্রতিটি বিক্ষোভকে সিআইএ-মোসাদের ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হচ্ছে রাষ্ট্র নিজেই। এই বয়ান ব্যবহার করে সরকার সহজেই সব বিরোধিতাকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে, নিরাপত্তা দমনকে বৈধতা দিতে পারে এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কারের দাবি এড়িয়ে যেতে পারে।

রাফিয়ির মতে, এটি এক ধরনের ‘নৈতিক স্থানচ্যুতি’, যেখানে আসল ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায়, আর আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে ভূ-রাজনীতি। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরেও আন্দোলন বিভক্ত হয়। কেউ শুধু সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতার কথা বলেন, কেউ শুধু মানবাধিকারের কথা বলেন। বাস্তবে ইরানের মানুষ এই দুইয়ের মাঝখানে আটকে আছে।

সুযোগসন্ধানী মিত্র, বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু নয় :
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রকাশ্য সমর্থন আন্দোলনের জন্য দ্বিমুখী ফল বয়ে আনে। একদিকে এটি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে, অন্যদিকে আন্দোলনের স্বাতন্ত্র্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। ভারত ডোগরা স্পষ্টভাবে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরাননীতি কখনোই মানবিক ছিল না। একই প্রশাসন একদিকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করেছে, অন্যদিকে সেই দুর্দশা থেকে জন্ম নেওয়া বিক্ষোভের প্রতি সহানুভূতির ভান করছে। ইসরাইলের ক্ষেত্রেও বিষয়টি আলাদা নয়। আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে ইরানকে দুর্বল করা তেল আবিবের দীর্ঘদিনের কৌশল। ফলে তাদের সমর্থন নিছক সংহতি নয় বরং কৌশলগত বিনিয়োগ।

রাজতন্ত্র বনাম প্রজাতন্ত্র কিংবা নতুন মুখে পুরোনো ভূত : রেজা পাহলভিকে ঘিরে পশ্চিমা মিডিয়া ও কিছু প্রবাসী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা আন্দোলনে আরেকটি বিভাজন তৈরি করেছে। ফ্রিদা আফারি স্মরণ করিয়ে দেন, পাহলভি নিজেই অতীতে আইআরজিসির সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে একটি প্রশ্ন সামনে আসে-  বর্তমান স্বৈরশাসন ভেঙে যদি এমন একটি শাসন আসে, যা সামরিক-অর্থনৈতিক এলিটদের সঙ্গে আপস করে চলে, তা হলে সাধারণ মানুষের মুক্তি কোথায়? ইরানি দার্শনিক মোহাম্মদ রেজা নিকফারের সতর্কবাণী এখানেই প্রাসঙ্গিক : ‘ঘৃণার রাজনীতি নতুন স্বৈরাচার তৈরি করে’।

বিকল্প পথ কিংবা ভেতর থেকে পরিবর্তন :
কিছু ইরানি বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সংগঠন একটি ন্যূনতম কর্মসূচির কথা বলছেন-  মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, বাধ্যতামূলক হিজাব আইন বাতিল, নারী ও সংখ্যালঘুদের সমান অধিকার এবং রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথকীকরণ। সোশ্যালিস্ট অ্যালায়েন্সের মতে, এই আন্দোলনের শক্তি এখানেই যে, এটি একযোগে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ উভয়ের বিরুদ্ধেই দাঁড়াতে চায়।

দুই মিথের মাঝখানে ইরানের বাস্তবতা :
ইরানের বিক্ষোভকে যদি শুধু সিআইএ-মোসাদের ষড়যন্ত্র বলা হয়, তা হলে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন অদৃশ্য হয়ে যায়। আবার যদি শুধু অভ্যন্তরীণ আন্দোলন বলা হয়, তা হলে নিষেধাজ্ঞা ও ভূ-রাজনীতির বাস্তবতা উপেক্ষিত হয়। সত্যটা এই দুইয়ের মাঝখানে। ইরানের মানুষ কোনো সাম্রাজ্যবাদী প্রক্সি নয়, আবার কোনো নিখুঁত বিপ্লবী রোমান্টিক চরিত্রও নয়। তারা একটি কঠিন বাস্তবতার ভেতর নিজেদের জায়গা খুঁজছে; যেখানে শাসকের বুলেট, নিষেধাজ্ঞার ক্ষুধা আর বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র সব একসঙ্গে কাজ করছে।

এএডি/


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: