নড়াইলে চলতি বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আবাদ শুরু হয়েছে। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে জেলার মাঠে মাঠে এখন বোরো চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক এবং দাম সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকায় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত আমন মৌসুমে ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নড়াইলে ৪৮ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। তবে গত বছর ধানের ভালো দাম পাওয়ায় এবার চাষিদের আগ্রহ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ১৭০ হেক্টর জমি। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ১ হাজার ৬৮০ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, জেলার তিনটি উপজেলার বিভিন্ন বিলে এখন কৃষকদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ সেচ দিচ্ছেন, আবার কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলে মূল জমিতে রোপণ করছেন। কৃষকরা জানান, বিগত সময়ে সার নিয়ে সিন্ডিকেট ও বাড়তি দামের বিড়ম্বনা থাকলেও এবার চিত্র ভিন্ন। ডিলার পর্যায়ে সরকারি নির্ধারিত দামেই ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার সংগ্রহ করতে পারছেন তারা।
সদর উপজেলার কৃষক ইয়াকুব মোল্লা বলেন, সারের জন্য এবার দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে না। সময়মতো সার পাওয়ায় চাষাবাদ দ্রুত শেষ করা যাচ্ছে। তবে ডিজেল ও কামলার (শ্রমিক) দাম অনেক বেশি। সব মিলিয়ে খরচ যা হচ্ছে, তাতে ধান কাটার সময় ভালো দাম না পেলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে।
সার ডিলার হাসানুজ্জামান হাসান জানিয়েছেন, সরকারি বরাদ্দ পর্যাপ্ত থাকায় সারের কোনো সংকট নেই। বিসিআইসি অনুমোদিত এই ডিলার বলেন, পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কৃষকরা যখনই আসছেন, তাদের চাহিদামতো সার নিতে পারছেন। আমরা নির্ধারিত দামের বাইরে কোনো টাকা নিচ্ছি না।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে জেলায় চাষাবাদের চাহিদা মেটাতে ৩ হাজার ৩৯২ মেট্রিকটন ইউরিয়া, ১ হাজার ২৭৫ মেট্রিকটন টিএসপি এবং ২ হাজার ৮৮২ মেট্রিকটন ডিএপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পটাশ সারও পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে।
নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা কৃষকদের শুধু সার নয়, আধুনিক চাষাবাদ ও সুষম সার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং আমাদের তদারকি অব্যাহত থাকলে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাম্পার ফলন হবে বলে আমরা আশাবাদী। উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি বাজারে ধানের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা গেলে নড়াইলের বোরো চাষিরা এবার লাভবান হবেন।
এএডি/