দুর্নীতিকে লাল কার্ড, নারী নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার : জামায়াতে ইসলামী

গোলাম মোস্তফা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনি ইশতেহার প্রায় চূড়ান্ত করেছে। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায়

2026-01-11T01:22:21+00:00
2026-01-11T01:22:21+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
দুর্নীতিকে লাল কার্ড, নারী নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার : জামায়াতে ইসলামী
গোলাম মোস্তফা
প্রকাশ: রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২২ এএম   (ভিজিট : ১৯৫)
ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনি ইশতেহার প্রায় চূড়ান্ত করেছে। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচলিত ধারা ভেঙে ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে দলটি। জামায়াত নেতারা জানান, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গৎবাঁধা প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা সংস্কার, বেকারত্ব দূরীকরণ, নারীর কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা, কৃষিবান্ধব নীতি, পররাষ্ট্র, ব্যবসা বাণিজ্য এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর অঙ্গীকার থাকবে ইশতেহারের অন্যতম প্রধান বার্তা হিসেবে। এ ছাড়া নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংস্কার, বিচার ও তরুণদের চাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ইশতেহারে জুলাই সনদের পক্ষে আপসহীন অবস্থান থাকবে। ইশতেহার প্রকাশ করা হবে তিনটি আলাদা ভার্সনে পূর্ণাঙ্গ, সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক, যা সহজবোধ্য ও জনগণকেন্দ্রিক। সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারে এমনভাবে তৈরি করে জনগণের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও অ্যাপভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ‘জনতার ইশতেহার’ নামে মতামত নেওয়া হয়েছে। সেখানে সাধারণ নাগরিকরা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নীতিগত মতামত এবং সমস্যাসহ ৩৫ প্রস্তাবনা দিয়েছে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের ভাবনা ও প্রত্যাশা জানতে চালু করা হয়েছে ‘জেন-জি জিজ্ঞাসা’ প্ল্যাটফর্ম। এখানে তরুণরা রাষ্ট্র, রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলতে পারছেন। ফলে সব মিলিয়ে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা প্রণয়ন করছে জামায়াত। একই দিনে সব রাজনৈতিক দল যেন ইশতেহার প্রকাশ করে এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছে দলটি।

জামায়াত জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিজয়ী দল কেমন বাংলাদেশ গড়বে সে প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। দেশের রাজনীতি কোন পথে হাঁটবে, ভবিষ্যতের গতি কোন দিকে যাবে তার উত্তর খুঁজছে মানুষ। এমন প্রেক্ষাপটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার নিয়ে বাড়তি আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাই ইশতেহার প্রণয়নে জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে তারা গ্রহণ করেছে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ ‘জনতার ইশতেহার’। এ উদ্যোগের আওতায় গত ১৮ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী দেশবাসীর কাছ থেকে সরাসরি মতামত সংগ্রহ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সময়ের আলোকে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি জনবান্ধব, বাস্তবসম্মত ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কাজ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ইশতেহারে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংস্কার ও তরুণদের চাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আমরা এখন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই।

তিনি বলেন, বিগত প্রায় ১৬ বছর দেশে আওয়ামী-বাকশালীদের অপশাসন-দুঃশাসন চলেছে। মাফিয়াতান্ত্রিক সরকার জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশকে প্রায় অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। সংবিধান ও আইনের তোয়াক্কা না করে সবকিছু করা হয়েছিল গায়ের জোরে। রাষ্ট্রের সব অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুম ও গুপ্তহত্যায় দেশকে পরিণত করা হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। ছাত্র-জনতার যুগপৎ বিপ্লবের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের সে অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতের ইশতেহারে চব্বিশের অভ্যুত্থান ও জুলাই সনদের পক্ষে জোরালো অবস্থান থাকবে। ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ রুখে দিতে দলের অঙ্গীকার এবং জনগণের করণীয়ও ইশতেহারে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে। এরই মধ্যে অনলাইনে ‘জনতার ইশতেহার’ নামে জনমত নেওয়া হয়েছে। সেখানে ৩৫ হাজার সুপারিশ জমা পড়েছে। আবার লিখিত মতামতের পাশাপাশি অডিও ও ভিডিও মাধ্যমেও মতামত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও সব মতামত ইশতেহারে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা জানিয়েছি জনগণের সব সুপারিশ-মতামত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ইশতেহারে শিক্ষা সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন এবং বেকারত্ব দূরীকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ইশতেহারে বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংস্কার, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, কৃষক, জেলে ও দিনমজুরদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, গৃহিণীদের জন্য প্রণোদনা, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি থাকবে।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন অন্য সব নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন মাত্রা বহন করছে। আমাদের লক্ষ্য দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মানবিক, টেকসই ও ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতিসহ দুর্নীতি নির্মূলে আগে নিজেদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনব। ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ রুখে দিতে দলের অঙ্গীকার ও তরুণদের চাওয়াকে গুরুত্ব এবং জনগণের করণীয়ও ইশতেহারে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে বলেও জানান এই জামায়াত নেতা।

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: