কিছু বছর আগেও মাঠজুড়ে দেখা মিলত হলুদের সমাহার, শীতের শুরুতে সরিষা বুনতে দেখা যেত কৃষকদের। কিন্তু অনাগ্রহ ও অসচেতনতার কারণে প্রতি বছরই কমতে শুরু করেছে সরিষার আবাদ। তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নের হাতিশাইল মাঠ, বিলকুমারী মাঠ, মালশিরা মাঠ, পাঁচন্দরের কচুয়া মাঠ, কলমার কুজিশহর মাঠসহ পুরো উপজেলাজুড়ে চাষ হতো সরিষার। কিন্তু এখন আর তেমন দেখা মিলে না সরিষার। কৃষকরা বেশি লাভের আশায় জমি দিচ্ছেন বর্গা আর তাতে রোপণ হচ্ছে আলু। সরিষা চাষ এখন হয়ে উঠেছে শৌখিনতা। রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এ বছর সরিষার আবাদে লক্ষণীয়ভাবে ধস নেমেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর সরিষার আবাদ অনেক কম হয়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে আলুর ব্যাপক চাষকে দায়ী করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, সরিষার চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। যারা সরিষা চাষ করেছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ফলন নিয়ে হতাশ। কৃষকদের মতে, আবহাওয়াজনিত সমস্যার পাশাপাশি ভালোমানের বীজ ও সারের ঘাটতি সরিষার ফলনে প্রভাব ফেলেছে। একারণেই গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর সরিষার চাষ অনেকটা কমে গেছে। অনেকে বলছেন, অধিক মাত্রায় আলু চাষের কারণেও এ বছর সরিষার আবাদ তুলনামূলকভাবে কমে গেছে।
তানোর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় আলুর আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কারণ আলু চাষে অধিক লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কৃষকরা সরিষার পরিবর্তে আলুর দিকে ঝুঁকেছেন।
তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন তারা সরিষার আবাদ ধরে রাখতে কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের সরিষা বীজ রোপণে সহযোগিতা করলেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। অনেকেই বীজ সংগ্রহ করে রোপণ করেননি এমনও অভিযোগ রয়েছে। ফলে এ বছর তানোরে সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত নাও হতে পারে। এদিকে সরিষা চাষি আমিন সরদার বলেন, গত বছর সরিষার ভালো ফলন পেয়েছিলাম, তবে এবার গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দুই-ই খারাপ হয়েছে। তাই আগামীতে হয়তো আলু বা অন্য কোনো ফসলের চাষ করব।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরিষা আবাদ কমে যাওয়া কৃষি পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। তারা কৃষকদের সুষম ফসল আবাদে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় কৃষকদের সমন্বয়ের মাধ্যমে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মদ জানান, তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। এবার আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের চাইতে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।