পড়ে আছে ৫ কোটির পানি শোধনাগার

মাহফুজ মামুন চুয়াডাঙ্গা

সুুুইপার কলোনি হিসেবে গড়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর পানি শোধনাগার। শ্যাওলা, আগাছা, ময়লা-আবর্জনায় ভরা পানি শোধনাগার ও পাম্প হাউসগুলো। হস্তান্তরের

2026-01-11T03:02:30+00:00
2026-01-11T03:02:30+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬,
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
পড়ে আছে ৫ কোটির পানি শোধনাগার
মাহফুজ মামুন চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০২ এএম 
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর পানি শোধনাগার পাঁচ বছর পরেও বন্ধ। ছবি : সংগৃহীত
সুুুইপার কলোনি হিসেবে গড়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর পানি শোধনাগার। শ্যাওলা, আগাছা, ময়লা-আবর্জনায় ভরা পানি শোধনাগার ও পাম্প হাউসগুলো। হস্তান্তরের পর এক দিনও চালু হয়নি পানি শোধনাগার। এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা। শোধনাগার ও পাম্প হাউস চালানোর জন্য লোকবল সংকট, বিদ্যুৎবিল, সংযোগ লাইন সম্প্রসারণ না হওয়ায় ও অর্থের ব্যবস্থা না থাকায় বন্ধ রয়েছে। উচ্চাভিলাষী প্রকল্প নিলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। জীবননগর পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর্সেনিক ও আয়রন যুক্ত পানি পান করতে হচ্ছে। ফলে তাদের প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্য পড়তে হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ শোধনাগার চালুর বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরকে বারবার তাগাদা দিলেও তাতে কোনো ফল আসেনি।

চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ৪৫ পৌরসভা ও থানা গ্রথ সেন্টার প্রকল্পের আওতায় পানি শোধনাগার ও পাম্প হাউস নির্মাণ করে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার আওতায় এটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে শোধনাগার, পাম্প হাউস নির্মাণ করা হয়। ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০০ পাইপ লাইনের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করা হয়। লাইনগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার ৩০০টি পরিবার প্রথম পর্যায়ে বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও পায়নি। শুধু অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শী পরিকল্পনার কারণে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

৪৫ পৌরসভা থানা গ্রথ সেন্টারে রয়েছে তিনটি পাম্প হাউস ও একটি শোধনাগার। একটি পাম্প হাউস ও মূল পানি শোধনাগার রয়েছে পৌরসভার ভেতর। জীবননগর পৌর এলাকার নারায়ণপুর সরকারপাড়া ও জীবননগর হাই স্কুলপাড়ায় রয়েছে দুটি পাম্প হাউস। এগুলো কয়েক বছর পড়ে থেকে অচল অবস্থায় রয়েছে। লতা-পাতা আর আগাছায় ভরা পাম্প হাউসগুলো। নির্মাণের পর কখনো খোলা হয়নি। পাম্প হাউসগুলো থেকে পানি শোধনাগারে আসার পর ফিল্টার ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরবরাহ করার ব্যবস্থা রয়েছে। সরাসরি পাম্পগুলো থেকে জরুরি মুহূর্তে পানি সরবরাহ করার ব্যবস্থা রয়েছে। হস্তান্তরের পর পানি শোধনাগার চালুর সব আয়োজন থাকলেও পাঁচ বছরে চালু করা সম্ভব হয়নি। এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩০০ বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য পাইপের মাধ্যমে সংযোগ লাইন দেওয়া হয় প্রথম পর্যায়ে। পরে পৌর কর্তৃপক্ষ নিজ অর্থায়নে ২০০ সংযোগ লাইন দেয় গ্রাহকদের। ৫০০ সংযোগ লাইন স্থাপন করা হয়। গোপালগঞ্জের মনির ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পূর্ণ করে। প্রতি ঘণ্টায় ২ লাখ লিটার পানি শোধন করে গ্রাহকদের মাঝে সরবরাহ করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। এক ফোঁটা পানিও সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন পড়ে থেকে চুরি আর নষ্ট হয়েছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। প্রকল্পটি আর কোনোভাবেই চালু করা সম্ভব নয়।

জীবননগর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানান, নানা জটিলতা থাকায় পানি শোধনাগারটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে চালুর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সুইপারদের আবাসন না থাকায় এখানে আমরা থাকতে দিয়েছি। চালুর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে, নয়তো চালু করা সম্ভব হবে না।



Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: