ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রস্তাব দিতে চান বলে প্রকাশ করেছেন। তবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শনিবার পরিষ্কার জানিয়েছে, নোবেল পুরস্কার একবার ঘোষণার পর তা প্রত্যাহার, ভাগ করা বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।
মাচাদো আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে বলেছেন, এটি তার জন্য একটি বড় সম্মানের বিষয় হবে এবং তিনি মাচাদোর সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছেন। ট্রাম্প অতীতে বহুবার নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দাবি করেছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে, তার দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি মেয়াদের প্রথম আট মাসে তিনি আটটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধ-সংঘাত সমাধানে ভূমিকা রেখেছেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে, মাচাদো দুই বছর আগে ভেনেজুয়েলায় বিরোধীদলীয় প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে সাধারণ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দেন। মাদুরো নিজ বিজয় দাবি করলেও, ওয়াশিংটন পোস্ট এবং স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষকরা ভোটের ফলাফলকে অবৈধ হিসেবে দেখেছেন।
শনিবার, ট্রাম্পের নির্দেশে মাদুরোকে গ্রেফতার এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুদ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, মাচাদোর জন্য দেশটির নেতৃত্ব করা কঠিন হবে, কারণ দেশের ভেতরে তার যথেষ্ট সমর্থন নেই।
এদিকে, নোবেল কমিটি এবং হোয়াইট হাউস উভয়ই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে পুরস্কার সরাসরি ট্রাম্পকে দেওয়া হবে না এবং কোনোভাবে তা ভাগ করা বা হস্তান্তর করা সম্ভব নয়। তবু মাচাদো ও ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা কূটনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/ইউএমএইচ