অর্থনীতির সব সূচকই আগে থেকেই ধুঁকছে। রাজস্ব ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি, দুর্বল ব্যাংকিং খাত, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে চরম মন্দা, জ্বালানি সংকট এবং বৈদেশিক খাতের অনিশ্চয়তা রয়েছে অর্থনীতিতে।
পাশাপাশি কয়েক মাস ধরে রফতানি বাণিজ্যেও ভাটা পড়েছে। সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। বিগত ২৫ বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণের সর্বোচ্চ হার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। সেই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিও আরও কমে গেছে।
অর্থনীতির ভালো দিক বলতে শুধু রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স আয়ে স্বস্তি। বাকি সব সূচকেই দৈন্যদশা চলছে। এ অবস্থার মধ্যে সবার নজর এখন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। বাজার ব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি কমানোসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে সরকারেরও নজর কম। ফলে নির্বাচনি প্যাঁচে পড়ে দেশের অর্থনীতির অবস্থা আরও নাজুক বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, আগের সরকারের আমল থেকেই বিনিয়োগে স্লথ গতি চলে আসছে। সেটি থেকে বের হওয়া তো যায়ইনি, গতি আরও কমে গেছে। চব্বিশের ৫ আগস্ট-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলা হয়েছিল, সেটিও কিন্তু হয়নি। দেশে এখনও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও আসেনি, বরং আরও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা একেবারে হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন।
তারা মনে করছেন, আগে রাজনীতির মতো বৃহত্তর বিষয়গুলো সমাধান হোক, তারপর অর্থনীতি। এখনও রাজনৈতিক বন্দোবস্তই ঝুলে আছে। পায়ের তলার মাটির অবস্থা কী সেটিই এখনও বুঝতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
এ অবস্থার মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। আর বিনিয়োগের সøথ গতি দেশের অর্থনীতির জন্য এখন সবচেয়ে বড় হুমকি। কারণ বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে না, কর্মসংস্থান না বাড়লে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। সেটি বাড়লে সামাজিক বিশৃঙ্খলাও বেড়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি নির্বাচনি প্যাঁচে পড়বে মূলত মূল্যস্ফীতির দিকে দিয়ে। নির্বাচনের সময় অর্থনীতিতে অর্থের ফ্লো বাড়ে, পণ্যের চাহিদা বাড়ে। এই বাড়তি চাহিদার সঙ্গে জোগান না বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। দেশে একবার কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সেটি আর কমে না।
এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের পরপরই রোজার মাস শুরু হয়ে যাবে। এ সময় তো এমনিতেই পণ্যমূল্য আরও বেড়ে যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, নির্বাচনের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। যদিও সব নির্বাচনের সময়ই ফোকাস থাকে নির্বাচনের দিকে। অর্থনীতি বা অন্য কোনো দিকে বড় ধরনের কোনো পলিসি নতুন করে আসবে না। তবে জাতীয় নির্বাচন যদি শান্তিপূর্ণ না তা হলে অর্থনীতির জন্য আরও বিপর্যয় ডেকে আনবে।’
সম্প্রতি পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) এক সেমিনারে অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক ধরনের মন্থর স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগে স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। দারিদ্র্য ও বৈষম্য থেকে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার আসন্ন নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মুদ্রাস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এটি নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা কমাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ পণ্যমূল্য যে হারে বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক কম হারে বেড়েছে মজুরি।
রফতানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহের উন্নতি এবং মূল্যস্ফীতি কমার ফলে অর্থনীতিতে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ অনীহা, ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসায়িক আস্থাকে দুর্বল করে রেখেছে। এ ছাড়া ২৫ বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ হওয়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। এ অবস্থায় শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা, কার্যকর ঋণ পুনর্গঠন কাঠামো ও দ্রুত সংস্কার করা দরকার।
একদিকে যেমন উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনে প্রবল অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে, অন্যদিকে অর্থনীতিতে যে বিনিয়োগের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, সেখান থেকেও বের হওয়া যায়নি। এডিপি বাস্তবায়নও গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার সাড়ে ১১ শতাংশে নেমেছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ বড় বড় মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন হার অত্যন্ত কম। বেসরকারি বা ব্যক্তিগত বিনিয়োগ ঐতিহাসিকভাবে নিচে নেমে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন। বিদেশি বিনিয়োগও সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
রাজস্ব পরিস্থিতির অবস্থাও ভালো না। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬.৭ শতাংশ এবং নভেম্বর পর্যন্ত তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫.২ শতাংশ। তবে লক্ষ্যমাত্রা থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বাকি সময়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত কঠিন। এর মধ্যেই সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আরও ৫৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় বাস্তবায়ন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা।
বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি আরও কমে গেছে : বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এ প্রবৃদ্ধি গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের অক্টোবরের শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬.২৩ শতাংশে। সেপ্টেম্বরে এ হার ছিল ৬.২৯ শতাংশ; অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে তা সামান্য কমেছে। এক বছর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে এই প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছিল ৮.৩০ শতাংশ।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির টানা এ নিম্নমুখী প্রবণতাকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। তারা বলছেন, গত বছরের আগস্ট থেকে নতুন বিনিয়োগ কমে যাওয়ার কারণেই মূলত ঋণ প্রবাহের এই নিম্নগতি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে প্রায় ৯.৫ শতাংশ। খেলাপি ঋণে অর্থের একটি বিশাল অংশ আটকে থাকায় অনেক ব্যাংক আর্থিক চাপে রয়েছে, নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা এখন বেশ সতর্ক।
এ প্রসঙ্গে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে নতুন বিনিয়োগে দুর্বলতা। নতুন বিনিয়োগ না করা হলে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করা কমে যায়। তখন ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া কমে যায়। বিনিয়োগে কোনো ঘুরে দাঁড়ানোর সিগন্যাল নেই। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পেছনে এটিই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে ধরে নিতে হবে।’
খেলাপি ঋণ বড় মাথাব্যাথার কারণ : ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ এখন ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ। ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ আরও বেশি। প্রকৃত খেলাপি ঋণ বেড়ে ৯ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা আছে। এ উচ্চ খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতে ঋণ সংকটের ঝুঁকি তৈরি করে এবং বিনিয়োগকে দুর্বল করে।
অন্তত ১৬টি ব্যাংক নতুন করে ঋণ দিতে পারছে না। ঋণ প্রবৃদ্ধি কমায় বিনিয়োগ কমছে, বেকারত্ব বাড়ছে এবং উন্নয়ন মন্থর হচ্ছে। এটি সামাল দিতে যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা হলে বাংলাদেশ উচ্চ সুদ, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, নিম্ন বিনিয়োগ ও নিম্ন প্রবৃদ্ধির ফাঁদে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেন, খেলাপি ঋণ ও লুটপাটের কারণে আগের সরকারের আমল থেকে দেশের ব্যাংক খাত যেভাবে ধুঁকছিল, সে অবস্থার খুব বেশি উন্ননি হয়নি। ব্যাংক খাত এখনও ধুঁকছে।
রাজস্ব আহরণে পিছিয়ে এনবিআর : আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ এ রাজস্ব সংগ্রহে ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশের বেশি হলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ২৪ হাজার ৪৭ কোটি টাকা।
বাড়ছে জ্বালানি সংকট : এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকটও বেড়েছে। দেশে এলপিজি সংকট তৈরি হয়েছে। এলএনজি সরবরাহ চেইনে যদি কোনো কারণে বিঘ্ন হয়, তা বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক তৎপরতাকে বড় রকমের বিপদে ফেলতে পারে।
যার চিত্র বিগত কয়েক দিনে দেখা গেছে সারা দেশে। দেশে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট। যেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৫৮ কোটি ঘনফুট। চাহিদা ও সরবরাহে বর্তমানে ঘাটতি থাকছে দৈনিক ১২২ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে বর্তমানে যে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে তা গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট কম। ওই সময়ে দেশে গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ ছিল ২৭৫ কোটি ঘনফুট।
কমছে রফতানি আয় : চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে রফতানি আয় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। চলতি অর্থবছরের ষষ্ঠ মাস ডিসেম্বরেও রফতানি আয় কমেছে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।
ইপিবির সবশেষ তথ্য অনুসারে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বাংলাদেশের মোট রফতানি আয় কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ২৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের রফতানি আয় ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জাতীয় রফতানি ও অর্থনীতির প্রাণভোমরা তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের রফতানি আয় এ সময়ে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার। খাতটির মধ্যে নিটওয়্যার রফতানি ১০ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ৩ দশমিক ২২ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে। একই সময়ে ওভেন পোশাক রফতানি ৯ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৮ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে ১ দশমিক ৯১ শতাংশ কমেছে।
রফতানি আয় কমার বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধাক্কা দিয়েছে। ফলে পোশাক পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। কাজের অর্ডারের প্রবাহও মন্থর। বিশেষ করে মার্কিন বাজারে আমরা অর্ডারের ধারাবাহিকভাবে বড় ধরনের পতন দেখেছি। চীন ও ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে হুড়োহুড়ি করে প্রবেশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কম দামে পণ্য সরবরাহ করে বাংলাদেশের বাজারের অংশ দখল করছে, যা দেশের রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’
দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী সময়ের আলোকে বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সরকার জ্বালানির দাম বাড়িয়েও সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২২ সালের পর জ্বালানি সংকটে উৎপাদন কমেছে, প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। আমরা চিৎকার করলেও সরকার শুনছে না। শক্তিশালী নীতি কাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল, দক্ষতা উন্নয়ন, কার্যকর এনবিআর এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কার ছাড়া অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে না।’
সময়ের আলো/এআর