প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৬ এএম আপডেট: ১২.০১.২০২৬ ৩:২৯ এএম
জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ। সংগৃহীত ছবিশিক্ষার্থীদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) জিএস আব্দুল আলিম আরিফ।
শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর সময়ের আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোশফিকুর রহমান ইমন।
সময়ের আলো : জিএস হিসেবে আপনার দায়িত্বকে কীভাবে দেখছেন?
আব্দুল আলিম আরিফ : দায়িত্ব আমাদের কাছে একটি আমানত। এ আমানতকে রক্ষা করাই মূল লক্ষ্য। আমাদের ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর যে আস্থা দেখিয়েছে, এটির মর্যাদা রক্ষা আমাদের দায়িত্ব। আমরা শিক্ষার্থীদের আশা পূরণ করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
সময়ের আলো : দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনারা কোন কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবেন?
আব্দুল আলিম আরিফ : বিষয় আছে যেগুলো এক বছরে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে এগুলোর শুরু করা যেতে পারে। আমরা সেটি করতে চাই। এ ছাড়া কিছু সমস্যার সমাধান সম্ভব। যেমন বাস ট্র্যাকিং অ্যাপ লঞ্চ করতে পারব, ইন্টারনেট সমস্যার সমাধানে কাজ করব, ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নয়ন এগুলো সমাধানে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারব। একটা কাজ করব বলে আরেকটা করব না, এমন যেন না হয়। আমরা অবশ্যই ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
সময়ের আলো : শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধানে আপনাদের ভাবনা কী?
আব্দুল আলিম আরিফ : এটি কেবল সংকট নয়, এটি একটি কাঠামোগত ব্যর্থতা। দীর্ঘদিন পরিকল্পনার অভাবে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। আমরা এটিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেখছি। কেরানীগঞ্জের সাত একরে যেন দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করা হয়, যে দুটি হলের কাজ শুরু হয়েছে তা যেন দ্রুত শেষ হয় এগুলোর জন্য আমরা কাজ করব।
সময়ের আলো : দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়নে জকসুর ভূমিকা কী হতে পারে?
আব্দুল আলিম আরিফ : জকসু প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করবে। আমাদের শিক্ষার্থীদের যে দাবি ছিল দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে কাজ যেন সেনাবাহিনীর হাতে যায় তা নিশ্চিত করা। আমরা এটি নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের প্রধান লক্ষ্য কাজ যেন কোনোভাবেই থমকে না থাকে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাস আমাদের স্বপ্নের ক্যাম্পাস। এটিকে যেকোনো মূল্যে হতেই হবে, নির্ধারিত সময়ের ভেতরে হতে হবে।
সময়ের আলো : ছাত্রশিবিরকে আমরা দেখেছি বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজ করতে। এখন তো আপনারা সব শিক্ষার্থীদের নেতা। এখনও কল্যাণমূলক কাজগুলো কি জকসুর ব্যানারেই করবেন নাকি ছাত্রশিবিরের?
আব্দুল আলিম আরিফ : আমাদের কিছু কাজ রয়েছে যেটি সাংগঠনিক। সেটি তো অবশ্যই ছাত্রশিবিরের ব্যানারে হবে। কিন্তু এর বাইরে সব শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আমরা আগেও কাজ করেছি, জকসুর পরেও করব। জকসুর কাজ কী কী তা গঠনতন্ত্রে আছে, ছাত্রশিবিরের কাজ কী তা আমাদের গঠনতন্ত্রে আছে। জকসুতে আমরা সব শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। জকসুর কাজ জকসু করবে, ছাত্রশিবিরের কাজ ছাত্রশিবির। মূলত জকসুর পর আমাদের দায়িত্বের পরিধি বেড়েছে, জবাবদিহিতা বেড়েছে। আমাদের কাজ এখন দ্বিগুণ।
সময়ের আলো : অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমাদের জকসু ভবন নেই। বাজেটের বিষয়ে এখনও আমরা পরিষ্কার নই। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
আব্দুল আলিম আরিফ : দেখুন, একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের চাহিদা অনেক। সে তুলনায় রিসোর্স অত্যন্ত কম। আমাদের ক্লাসরুমের সংকট, অনেক শিক্ষক বসারও জায়গা পান না। আমরা এত কিছুর মধ্যেও তো চলছি। আর আমরা তো শিক্ষার্থীদের বাইরের কেউ নই। এগুলো আমরা অ্যাডজাস্ট করে নিতে পারব। তবে এটি অবশ্যই সত্য আলাদা একটা ভবন থাকলে, আলাদা আলাদা সবার রুম থাকলে, পর্যাপ্ত রিসোর্স থাকলে কাজ করতে তো সুবিধাই হবে।
আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটি দেখবে। আর বাজেটের বিষয়ে বলতে গেলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটও তুলনামূলক অপ্রতুল। এখন আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র যারা ভালো ভালো জায়গায় আছেন, তাদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। তাদের এনগেজ করে কাজ করলে আমাদের সুবিধা হবে, বিশ্ববিদ্যালয়েরও উন্নয়ন হবে।
সময়ের আলো : এক বছর পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান?
আব্দুল আলিম আরিফ : শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর যে বিশ্বাস রেখে দায়িত্বে বসিয়েছে, তারা যেন এক বছর পর তাদের বিশ্বাসের মর্যাদা পান সেটি নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের সংকট অনেক বেশি হওয়ায় কাজ করার সুযোগও অনেক বেশি। আমরা চাই এসব সংকটের সমাধান করতে। যেগুলো এই সময়ে সম্ভব নয়, অন্ততপক্ষে সেগুলো সমাধানে কাজ শুরু করে দিয়ে যেতে চাই। সব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।
সময়ের আলো/এআর