শৈত্যপ্রবাহে থমকে গেছে উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়। ছবি : সময়ের আলো
হিমালয় থেকে ধেয়ে আসা হিমশীতল বাতাস আর হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহে থমকে গেছে উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়। গত মঙ্গলবার থেকে টানা এক সপ্তাহ ধরে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচেই অবস্থান করছে। ফলে জেঁকে বসা এই তীব্র শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে রোববার তাপমাত্রা নেমেছিল ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে। শুক্রবার এই মৌসুমের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। টানা এই শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে উত্তরের জনপদ।
স্থানীয় ভ্যানচালক কালাম বলেন, ‘ভাই খুবই ঠান্ডা। ঠান্ডার কারণে ভ্যানে যাত্রী উঠতে চায় না। ভোর-সকালে ভ্যান চালাতে গিয়ে হাতদুটো যেন অবশ হয়ে আসে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’
চাশ্রমিক জুয়েল রানা বলেন, ‘হাত-পা সব বরফ হয়ে যায়। মনে হয় তাপমাত্রা জিরোর নিচে। কিন্তু কাজ না করলে খামু কি? তাই বাধ্য হয়েই বাগানে নামছি।’
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, রাতভর টিনের চালে বৃষ্টির মতো শিশির পড়ার শব্দ শোনা যায়। আসবাবপত্র আর মেঝে যেন বরফ হয়ে আছে। ফলে থমকে গেছে গৃহস্থালির স্বাভাবিক কাজও।
পঞ্চগড়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ছবি : সময়ের আলো
অপরদিকে কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগব্যাধি। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রতিদিন সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া নিয়ে ভিড় করছেন রোগীরা। যাদের বড় অংশই শিশু ও বয়োবৃদ্ধ। চিকিৎসকরা এ সময় শিশুদের বাড়তি যত্ন ও গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ বলেন, ‘পঞ্চগড়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচেই আছে। কুয়াশা ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।’