রোহিঙ্গাদের জীবনকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী দাউদা জালো বলেছেন, মিয়ানমার সংখ্যালঘু এই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং তাদের জীবনকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে।সংখ্যালঘু মুসলিম

2026-01-12T20:35:52+00:00
2026-01-12T20:35:52+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
রোহিঙ্গাদের জীবনকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে মিয়ানমার
আইসিজেতে গাম্বিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম 
মিয়ানমার জান্তার আক্রমণ থেকে বেঁচে ফিরছে রোহিঙ্গা পরিবার। ছবি : সংগৃহীত
গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী দাউদা জালো বলেছেন, মিয়ানমার সংখ্যালঘু এই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং তাদের জীবনকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে। 

সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা মামলার বিচার সোমবার (১২ জানুয়ারি) শুরু হয়েছে। এদিন বিচার চলাকালে আদালতের শুনানিতে বিচারকদের এ কথা বলেন গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী দাউদা জালো। 

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা সহজ-সরল মানুষ। তারা শান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন চেয়েছিল, কিন্তু তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য নিশানা করা হয়েছে। মিয়ানমার তাদের স্বপ্নকে অস্বীকার করেছে। বাস্তবে তাদের ওপর অকল্পনীয়-রকম ভয়াবহ সহিংসতা এবং ধ্বংস চালিয়ে তাদের জীবনকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে।

এক দশকেরও বেশি সময় পরে ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) এবারই প্রথম গণহত্যা মামলার পূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ প্রভাব পড়বে মিয়ানমারের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্য মামলার ওপরও। যেমন, গাজায় যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা গণহত্যা মামলা। পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্র গাম্বিয়া ২০১৯ সালে বিশ্ব আদালত নামে পরিচিত আইসিজে-তে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলা করেছিল।

মামলায় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্মম আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণের মুখে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয় আর তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গা নির্বিচার হত্যা, ব্যাপক ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে।


জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন তদন্ত শেষে সিদ্ধান্তে আসে, ২০১৭ সালে হওয়া ওই সামরিক হামলার সময় ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন এবং গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তারা দাবি করে, মুসলিম জঙ্গিদের হামলার প্রতিক্রিয়ায় তাদের সামরিক আক্রমণ ছিল একটি বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান।

হেগ আদালতে মামলার শুনানি শুরুর প্রাক্কালে ভুক্তভোগী রোহিঙ্গারা বলেছে, তারা দীর্ঘপ্রতীক্ষিত এই মামলায় ন্যায়বিচার চায়। ৫২ বছর বয়সি এক রোহিঙ্গা শরণার্থী ইউসুফ আলি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আমরা একটি ইতিবাচক ফল আশা করছি, যা বিশ্ববাসীকে বলে দেবে যে, মিয়ানমার গণহত্যা চালিয়েছে। আর আমরা এর শিকার। আমরা ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি রাখি। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন এই শরণার্থী।

আইসিজে-র এবারের শুনানিতেই প্রথমবারের মতো ভুক্তভোগী রোহিঙ্গাদের কথা শোনা হবে। তবে আদালতে এই শুনানি হবে রুদ্ধদ্বার কক্ষে। তা ছাড়া মামলার সংবেদনশীলতার কারণে এবং গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এ শুনানিতে গণমাধ্যমেরও প্রবেশ থাকবে না। সব মিলিয়ে আইসিজে-তে মামলার শুনানি চলবে তিন সপ্তাহ।

সময়ের আলো/এসকে/ 


  বিষয়:   রোহিঙ্গা  দুঃস্বপ্ন  মিয়ানমার 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: