বিরতির পর ছোটপর্দায় ফিরে আবারও নিজেকে জানান দিলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত। অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের মন জয় করেছে তার অভিনীত চরিত্র ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’। কয়েক সপ্তাহ ধরেই টিআরপি তালিকায় ভালো ফল করছে ধারাবাহিকটি, যা প্রমাণ করে ছোটপর্দায় পুরোনো ফর্মে ফিরেছেন স্বস্তিকা।
টেলিভিশনের পাশাপাশি চলতি বছর বড়পর্দাতেও দেখা যাবে তাকে। আসন্ন সিনেমা ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী। কাজের ব্যস্ততা ও সাফল্যের মধ্যেই ব্যক্তিগত জীবনেও এসেছে এক বড় প্রাপ্তি।
ধারাবাহিক, সিনেমা ও ওয়েবসিরিজ গত কয়েক বছরে নানা মাধ্যমে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্বস্তিকা। একজন অভিনেতার কাছে এই বৈচিত্র্য নিঃসন্দেহে স্বপ্নের মতো।
তবে ক্যামেরার আলোর বাইরে মানুষ স্বস্তিকার মনে দীর্ঘদিন ধরে লালিত ছিল আরেকটি স্বপ্ন নিজের একটি বাড়ি। অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার পর নিজের ফ্ল্যাট কিনেছেন স্বস্তিকা দত্ত। এই আবেগঘন মুহূর্তের অনুভূতি তিনি ভাগ করে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানে উঠে এসেছে তার জীবনসংগ্রাম, পাওয়া না-পাওয়ার গল্প এবং নিজেকে খুঁজে পাওয়ার দীর্ঘ পথচলার কথা।
স্বস্তিকা লিখেছেন, ‘স্বস্তিকাকে কতজন চেনেন আপনারা? আমি, অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্তের কথা বলছি না, আমি স্বস্তিকার কথা বলছি...জীবনে মানুষ এসেছে, বিদায় নিয়েছে। আমি কাউকে আটকাইনি, কথায় আছে না, যারা চলে যেতে চায় তাদের কে থামাতে পারে? কিন্তু আমার এই স্বপ্নটাকে আমি কোনো দিনও যেতে দিইনি। স্ট্রাগল আমিও করেছি মানসিক, শারীরিক, ব্যক্তিগত।’
একই সঙ্গে আত্মসমালোচনাও করেছেন স্বস্তিকা। নিজের চাওয়াকে যদি আরও আগে গুরুত্ব দিতে পারতেন, তা হলে হয়তো এই স্বপ্নপূরণে ১২ বছর সময় লাগত না এমন অনুভূতিও প্রকাশ করেছেন তিনি।
অভিনেত্রীর মতে, ‘নিজের স্বপ্নের মধ্যে জায়গা সবাই কে দেবেন না...ওটা নিজের থাক...বাবা আমার বাড়ি হলে ব্যালকনিটা মাস্ট, মা আমাকে আমার অনুযায়ী সাজাতে দেবে কিন্তু, ওই তোমার, কাচের বাটি গ্লাস, এটা ওটা হবে না কর না— একটু যদি নিজের স্বপ্নপূরণের কথাটা আগে ভাবতাম তা হলে ১২ বছর লাগত না...না? আমার এই পৃথিবীর অংশ আমি, আমার পরিবার।’
সব মিলিয়ে পর্দায় একজন সফল অভিনেত্রী হওয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে নিজের একটি ঠিকানা তৈরি করার এই যাত্রা স্বস্তিকা দত্তর কাছে নিঃসন্দেহে এক আবেগঘন ও স্মরণীয় অধ্যায়।
এফআর