বগুড়া সারিয়াকান্দিতে কেশর আলু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। দাম ভালো পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে লাখ টাকার বেশি আয় হচ্ছে। কেশর আলুর বীজ বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছেন অনেক কৃষক। কেশর আলু ও আলুর বীজ বিক্রি করে একজন কৃষক ১ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী গত বছর এ উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে কেশর আলুর আবাদ হয়েছিল। ফলন হয়েছিল হেক্টরপ্রতি ২০ থেকে ২২ টন। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ হেক্টর। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে ৭ হেক্টর জমিতে কেশর আলুর আবাদ হয়েছে। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত কেশর আলু জমিতে রোপণ করতে হয়। ডিসেম্বর মাস থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ফসল সংগ্রহ করা যায়।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই কৃষকরা কেশর আলু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এটি চাষে সাধারণত খুবই কম খরচ হয় কিন্তু লাভ বেশি হয়। কেশর আলু ভিটামিন ই, আঁশ, শর্করা, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসসমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজমশক্তি উন্নত করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং এতে থাকা অ্যান্টিক্যানসার উপাদান ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে। এটি মিষ্টি ও ঠান্ডা স্বাদের হওয়ায় কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া যায় এবং ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও উপকারী।
বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর উপজেলার কৃষকরা কেশর আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। গত বছর ভালো লাভ পেয়ে এ বছর তারা অধিক জমিতে কেশর আলু চাষ করেছেন। এটি চাষ করতে সাধারণত খুবই কম খরচ হয় এবং রোপণের পর পরিচর্যাও কম করতে হয়।
সাধারণত দুয়েকটি চাষ দিয়ে জমিতে কেশর আলুর বীজ বপন করতে হয়। তারপর আর কোনো পরিচর্যা না করলেও চলে। শুধু উত্তোলনের সময় জমি থেকে কেশর আলু উত্তোলন করতে হয়।
উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ছাগলধরা গ্রামসহ বাঙালি নদীর কিনারাযুক্ত জমিগুলোতে কেশর আলু চাষ বেশি হয়েছে।
উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ছাগলধরা গ্রামের কৃষক গত বছর ১ বিঘা জমিতে আগাম কেশর আলু চাষ করে ২ লাখ টাকার বেশি কেশর আলু বিক্রি করেছেন। এ বছর তিনি তার ২ বিঘা জমিতে কেশর আলু আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তার জমিতে কেশর আলুর ফলন বেশ ভালো হয়েছে। কয়েক দিন ধরেই তিনি কেশর আলু উত্তোলন করে বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। প্রথমের দিকে তিনি ভালো দামে আলু বিক্রি করেছেন। তবে কয়েক দিনের অতিরিক্ত ঠান্ডায় দাম একটু কম পাচ্ছেন। অনেক কৃষকই কেশর আলুর আবাদ করেছেন।
কৃষকরা বলছেন, গত বছর তারা ৪০ হাজার টাকা মণদরে কেশর আলুর বীজ বিক্রি করেছেন। এতে তারা খুবই লাভবান হয়েছেন।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, সব ফসলের চেয়ে কেশর আলুতে লাভ বেশি। প্রতি বিঘা জমিতে ৬০ মণের বেশি কেশর আলু পাওয়া যায়। সাধারণত প্রতি বিঘা জমিতে কেশর আলু চাষ করতে মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কেশর আলু চাষ করতে জমিতে কোনো পরিচর্যা নেই বললেই চলে। এ বছর আমি প্রথমে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা কেজি পর্যন্ত কেশর আলু বিক্রি করেছি।
এফআর