পায়ের চাপেই দেবে যায় সড়ক

এস এম আক্কাছ, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ২ হাজার ৭৬০ মিটার দীর্ঘ সুয়াবিল সোবহানীয়া সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ইট,

2026-01-13T04:58:57+00:00
2026-01-13T04:58:57+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
পায়ের চাপেই দেবে যায় সড়ক
এস এম আক্কাছ, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৮ এএম 
ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভায় ২ হাজার ৭৬০ মিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ছবি : সময়ের আলো
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ২ হাজার ৭৬০ মিটার দীর্ঘ সুয়াবিল সোবহানীয়া সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ইট, খোয়া ও বালু দেওয়ার কারণে পায়ের চাপেই সড়ক দেবে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকল্পে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের অর্থায়নে রাস্তা নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এল জে ট্রেডার্সের অনুকূলে কাজ পান ঠিকাদার মো. সাহাব উদ্দিন। ২০২৫ সালের ১ জুন কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে বাস্তবায়িত হয়েছে ৫০ শতাংশ কাজ। তাও আবার অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, খোয়া ও মাটিযুক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে নির্মাণকাজে।

সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে। বালুর পরিবর্তে কাদামাটি দিয়ে তার ওপর নিম্নমানের পুরোনো ইট দিয়ে সলিং ও খোয়া ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরোনো ইট না উঠিয়ে তার ওপরেই কাজ করা হচ্ছে। সড়কের যতটুকু অংশের কাজ শেষ হয়েছে সেখানে পায়ের চাপেই দেবে যাচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের কাউকে কাজের তদারকি করতেও দেখা যায়নি। 

স্থানীয়রা বলছেন, এই রাস্তার কাজ তদারকিতে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাস্তার দুই পাশের কাটা মাটির সঙ্গে বালু মিশিয়ে কাজ করছে। পুরোনো ইট-খোয়াসহ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছে তারা। এলাকাবাসী অনিয়মের অভিযোগ করার পরও প্রতিষ্ঠানটি এসব আমলে নিচ্ছে না। তারা দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে কিছু দিনের মধ্যেই রাস্তাটি ভেঙে যাবে। পানিতে যাবে সরকারি বিশাল অঙ্কের অর্থ। কয়েক মাস যেতে না যেতেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে এটি। সরকারি বরাদ্দের অপচয়ের পর পুনরায় দুর্ভোগের শিকার হতে হবে এলাকাবাসীকে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, ঠিকাদারকে টেন্ডারের চুক্তি অনুযায়ী কাজ করার কথা বললেও তিনি কোনো তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের ইট, খোয়া, বালু ও কংক্রিট দিয়ে কাজ সম্পূর্ণ করার পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্কুলশিক্ষক বাদল চক্রবর্তী বলেন, কাজের গুণগত মান অত্যন্ত খারাপ। পানি না ছিটানোর কারণে ধুলায় একাকার পুরো সড়ক। এ ছাড়া কাদামাটিতে ভরে গেছে পুরো সড়ক। পুরোনো ইট ব্যবহার হচ্ছে। এরকম কাজ জীবনেও দেখিনি।

অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এল জে ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের চাঁদাবাজির কারণে সেখানে আমরা এক প্রকার জিম্মি। কাজের উপাদান-উপকরণ অবশ্যই তাদের কাছ থেকে কিনতে হবে এমন অজুহাতে তারা বাধা সৃষ্টি করছে।

পৌরসভার প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাশ বলেন, অনিয়মের বিষয়ে কার্যাদেশের সময় তাদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কাজে অনিয়ম পেলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

নাজিরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কশিনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সরেজমিন গিয়ে অনিয়মের অবস্থা দেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এফআর


  বিষয়:   চট্টগ্রাম  ফটিকছড়ি উপজেলা  নাজিরহাট পৌরসভা  নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম  অভিযোগ  সড়ক 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: