অফিস বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহার করে বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপ-উপাচার্য ও বিএনপিপন্থি একদল কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ১টার দিকে কুষ্টিয়ায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন তারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া-৩ আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার ও ইবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ‘বিজয়-৭১’ বাস ব্যবহার করে কুষ্টিয়ার যান এসব কর্মকর্তা। এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী, হিসাব শাখার পরিচালক আনা পাশা, পরিবহন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ওয়ালিউর রহমান পিকুল, স্টেট অফিসের প্রধান আলা উদ্দিন, উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) গোলাম মাহফুজ মঞ্জুসহ অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা দুপুর ১২টার দিকে রওনা হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন।
অভিযোগ রয়েছে, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলীর নেতৃত্বে কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে গিয়েছেন। ফলে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় অফিস কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা।
তাদের অভিযোগ, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজ ফেলে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ব্যবহার করেছেন। এতে একদিকে যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদের অপচয়ও হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী বলেন, আমি জাকির হোসেন সরকারের ব্যক্তিগত দাওয়াতে গিয়েছিলাম। আমি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাইনি, তবে সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। কর্মকর্তারা তো রাজনীতি করেন, সে কারণেই তারা সেখানে গেছেন। সেখানে খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়েছে।
অফিস সময়ের মধ্যে সেখানে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিসি স্যারও তো গত শনিবার আমির হামজার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কর্মকর্তাদের বাসের অনুমতি ভিসি স্যারই দিয়েছিলেন।
বাস ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ বলেন, আমি ঢাকায় আছি। ক্যাম্পাসের বাস ব্যবহারের বিষয়ে কিছু জানি না। বিষয়টি বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, কোনো বাসের অনুমতি আমি দেইনি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। অফিস ছেড়ে রাজনৈতিক প্রোগ্রামে এভাবে কেউ যেতে পারে না। এছাড়া গত শনিবারের প্রোগ্রামটি কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম ছিল না। সেখানে মদিনা সনদের উপর আলোচনা হয়েছিল। সেখানে জাকির হোসেন সরকার ও আমির হামজা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/আআ