উত্তাল বিক্ষোভে টালমাটাল ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র। বর্তমানে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশটিতে। সরকার একদিকে কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে রাজপথ দখলের চেষ্টা করছে অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায়ে অটল। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এটিই বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কর্তৃপক্ষের রক্তচক্ষু আর ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট উপেক্ষা করে প্রত্যক্ষদর্শীরা যে চিত্র তুলে ধরছেন, তা কোনো যুদ্ধের চেয়ে কম নয়। অন্তত ১ হাজার ৮৫০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ। গ্রেফতার আন্দোলনকারীর সংখ্যা ৬ থেকে ২০ হাজার হতে পারে বলে খবর আসছে। হাসপাতালগুলোর মর্গ ভরে গেছে মরদেহে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হাসপাতালে মরদেহের স্তূপ দেখে যেন মনে হয় কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে আছি।
এমন অবস্থায় ট্রাম্প আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, তোমাদের জন্য ‘সহায়তা’ আসছে। একই সময়ে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ‘পরীক্ষা’ নিতে চায়, তা হলে তারাও সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যাও। নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নাও। খুনি ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করো। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের নির্বিচার হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সহায়তা আসছে।’ বিবিসির এক প্রতিবেদনে ট্রাম্প যখন বলছেন ‘সহায়তা আসছে’ তখন তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন তা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। তবে খুব বেশি স্পষ্টতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে ট্রাম্প সাধারণত খুব কমই প্রকাশ্যে কিছু জানান। গত কয়েক মাসে যেসব বিশ্লেষকের সঙ্গে বিবিসির প্রতিবেদক কথা বলেছেন তাদের অনেকেই এই কৌশলকে বলেছেন ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’। যার উদ্দেশ্য হলো সবাইকে, এমনকি বিদেশের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও তার প্রকৃত অভিপ্রায় নিয়ে ধোঁয়াশায় রাখা। গত গ্রীষ্মে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার আগে বিশ্বকে দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তায় রাখার ক্ষেত্রেও আমরা একই দৃশ্য দেখেছি। চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ধরার প্রশ্নেও একই কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছিল। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবার ট্রাম্পকে ইরান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফ করার কথা ছিল। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি সামরিক বা ‘কাইনেটিক’ পদক্ষেপ। আবার তুলনামূলকভাবে কম সহিংস পথও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর জন্য ইরানকে শাস্তি দেওয়া এবং তেহরানের সরকারের কাছে স্পষ্ট বার্তা পাঠানো। তবে এখনও পরিষ্কার নয়, ট্রাম্প যে ‘সহায়তার’ কথা বলছেন, তিনি কোন দিকটিতে ঝুঁকছেন। আর সেই সহায়তা কবে বা কীভাবে আসবে সেটিও অজানা।
দক্ষিণ ইরানের একটি ছোট শহরের বাসিন্দা উমিদ (ছদ্মনাম) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে গত কয়েক দিনের নারকীয় পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। তার কণ্ঠে ছিল আতঙ্ক আর কান্নার মিশেল। তিনি বলেন, আমি নিজের চোখে দেখেছি, ওরা সরাসরি বিক্ষোভকারীদের সারি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছিল, আর মানুষ যে যেখানে ছিল সেখানেই লুটিয়ে পড়ছিল। তেহরানের এক তরুণী গত বৃহস্পতিবারকে ‘কিয়ামতের দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘তেহরানের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোও বিক্ষোভকারীতে ঠাসা ছিল। কিন্তু শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনী শুধু মেরেই যাচ্ছিল। চারদিকে এত রক্ত আর মৃত্যু দেখে আমি মনোবল হারিয়ে ফেলেছি।’ তার কথায়, যুদ্ধে দুই পক্ষের হাতে অস্ত্র থাকে। কিন্তু এখানে মানুষ শুধু স্লোগান দিচ্ছে আর প্রাণ হারাচ্ছে। এটি একটি একতরফা যুদ্ধ।
ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভ দমন করতে সরকার কঠোর ও সহিংস অভিযানে নেমেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই দমনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে, এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৮৫০ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং ১০ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। নিহতের সংখ্যার বিষয়ে এখন আরও ভয়াবহ চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, প্রকৃত সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা এক ইরানি সরকারি কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, এই অস্থিরতায় প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। এটি সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম বড় ধরনের স্বীকৃতি।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো নামসহ শত শত নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, তারা ৬৪৮ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ৯ জন শিশু রয়েছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বাস্তব সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে- কিছু অনুমানে তা ৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরও জানিয়েছে, তাদের বিশ্বাস শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানে তাদের সরাসরি উপস্থিতি না থাকলেও তারা মাঠ পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য পাচ্ছে বলে জানিয়েছে। লন্ডনে কর্মরত ইরানি বংশোদ্ভূত অনকোলজিস্ট অধ্যাপক শাহরাম কোরদাস্তি বিবিসিকে জানিয়েছেন, ইরানের হাসপাতালগুলো কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, রক্ত ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট চলছে এবং শত শত আহত ও নিহত রোগী সেখানে আনা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য ‘চরম উদ্বেগজনক’। তিনি জানান, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের গুরুতর লঙ্ঘন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বিক্ষোভের নামে যারা সরকারি সম্পদের ক্ষতি করেছে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) যদিও সরকারপন্থি ফারস সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে, গত সোমবার রাত ছিল ‘ঝড়ের পরের শান্তি’। তারা জানিয়েছে, বহু শহরে বিক্ষোভ হয়নি এবং প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সরকারপন্থি সমাবেশে অংশ নিয়েছে। তবে বিবিসি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব দাবি যাচাই করা কঠিন এবং বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।
এদিকে চার দিনের বেশি সময় ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকার পর প্রথমবারের মতো কিছু মানুষ ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল ফোনে বিদেশে কল করতে পেরেছেন। তবে ইন্টারনেট সংযোগ এখনও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিকভাবে চালু হওয়ায় ইরানের ভেতর থেকে কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা তেহরানের দুই বাসিন্দা জানিয়েছেন, অন্তত আপাতত রাজধানীতে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত মনে হচ্ছে। তবে একই সময়ে বিভিন্ন শহর থেকে পাওয়া নতুন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাতের বেলা মানুষ রাস্তায় নেমে স্লোগান দিচ্ছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত বড় ব্যাংক ‘মেল্লি ব্যাংক’-এর একটি শাখা আগুনে পুড়ে কালো হয়ে গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, তার বিশ্বাস ইরানি শাসনব্যবস্থা হয়তো তার ‘শেষ দিন ও সপ্তাহের’ মুখোমুখি। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যারা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে, তাদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এর আগে তিনি ইরানের বিক্ষোভকারীদের ‘উদ্ধার’ করতে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার কথাও তুলেছিলেন। ট্রাম্পের এই শুল্ক সিদ্ধান্ত ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ হবে বলে জানানো হয়েছে। ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে চীন ও ভারত রয়েছে। ভারত ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অন্যান্য শুল্কে চাপে আছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, ‘শুল্কযুদ্ধে কেউ বিজয়ী হয় না।’ তিনি যোগ করেন, চীন তার বৈধ অধিকার ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত সোমবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন যদি সামরিক বিকল্প ‘পরীক্ষা’ করতে চায়, ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগেও এই পথ পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ইরান তখনও প্রস্তুত ছিল। একই সঙ্গে তিনি সংলাপকে ‘বুদ্ধিমানের পথ’ বলে উল্লেখ করেন। তবে অভিযোগ করেন যে, কিছু পক্ষ ইসরাইলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে নিতে চাইছে। আরাঘচি দাবি করেন, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল, তার চেয়ে এখন ইরানের সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি। সেই হামলার পর ইরান কাতারে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে প্রতীকী পাল্টা হামলা চালিয়েছিল, যাতে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, বিক্ষোভের ভিড়ে ‘সন্ত্রাসী উপাদান’ ঢুকে নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভ রুখে দিতে ইরানি প্রশাসনের এমন দমন-পীড়ন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ গণবিক্ষোভের মুখে পড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খোদ ইরানের একজন সংসদ সদস্য। মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে ইয়াজদ প্রদেশের প্রতিনিধি মোহাম্মদরেজা সাবাঘিয়ান বলেন, মানুষের মধ্যে গভীর অসন্তোষ রয়েছে। সরকার ও পার্লামেন্টের কর্মকর্তাদের উচিত দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা। অন্যথায় একই ধরনের ঘটনা আরও তীব্রভাবে ফিরে আসবে।
এদিকে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু বাড়ি থেকে মার্কিন অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের দাবি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক কয়েকটি ‘সন্ত্রাসী সেলের’ সদস্যদের কাছে ছিল বলে জানানো হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দেশটিতে সহিংসতা উসকে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ‘বিদেশি এজেন্ট’ মোতায়েন করেছে, যাতে পরবর্তীকালে (দেশটির বিরুদ্ধে) সামরিক শক্তি ব্যবহারের অজুহাত তৈরি করা যায়। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানান, দেশের বাইরে থেকে বিক্ষোভকারীদের নির্দেশনা দেওয়ার বেশ কিছু অডিও রেকর্ড কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাহেদানে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’র কয়েকজন সদস্যকে আটক করারও দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে বলা হয়েছে, গোষ্ঠীটি ইরানের পূর্ব সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে। তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের তৈরি অস্ত্র ও বিস্ফোরক ছিল। এই অস্ত্র দিয়ে তারা বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা করেছিল।
আলাদাভাবে ইরানের সামরিক প্রধান আবদোলরহিম মুসাভি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা চালানোর জন্য ইরানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএসের (ইসলামিক স্টেট) সদস্যদের পাঠাচ্ছে। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুসাভি দাবি করেছেন, গত জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের সংঘাতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ব্যর্থ হওয়ার পর তারা এই পথ বেছে নিয়েছে।
অন্যদিকে ফরাসি দূতাবাসের অপ্রয়োজনীয় কর্মীরা ইরান ছেড়ে গেছেন বলে এএফপিকে দুটি সূত্র জানিয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের কর্মী ও নাগরিকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং ইরানে থাকা অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাসও মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং জানিয়েছে, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভর না করেন। একটি নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠতে পারে, গ্রেফতার ও আহতের ঝুঁকি রয়েছে। সড়ক অবরোধ, পরিবহন ব্যাঘাত ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আর্মেনিয়া বা তুরস্ক হয়ে স্থলপথে দেশ ছাড়ার কথাও বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কথার লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিমান হামলাসহ সব বিকল্পই বিবেচনায় আছে। তবে একই সঙ্গে কূটনীতিক যোগাযোগও চলছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করে সরকারের পক্ষে আয়োজিত সমাবেশকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা স্বীকার করেও অনেক সরকারপন্থি বিক্ষোভকারী বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এই সংকট কোথায় গিয়ে থামবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এটুকু পরিষ্কার যে, ইরান এক গভীর রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটের মধ্যে প্রবেশ করেছে যার অভিঘাত শুধু দেশটির ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।
সময়ের আলো/এনএ