প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৬ এএম
১৯৬১ সালে পাকিস্তান আমলে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ইলিয়াড ব্রিজের পাশে নির্মিত সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ছবি : সময়ের আলো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দুর্ঘটনায় সবার আগে ছুটে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা কিন্তু সিরাজগঞ্জে দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জীর্ণ ভবনের কারণে এখন তারা নিজেরাই জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে সিরাজগঞ্জের সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসের কার্যক্রম। এ জন্য প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় সিরাজগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীদের। দীর্ঘদিনের পুরোনো এই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, বেঁকে গেছে বেশ কয়েকটি জানালার গ্রিল। বিনষ্ট হয়ে গেছে দরজার চৌকাঠ। এ ছাড়া ফাটল দেখা দিয়েছে ব্যারাক, গ্যারেজ বিল্ডিং, অফিস কক্ষের পিলার ও দেয়ালে। এ ছাড়া ভবনের ছাদ, কার্নিশসহ বিভিন্ন অংশে বিপজ্জনক ফাটল দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি হলেই ছাদ থেকে ভবনের ভেতরে চুইয়ে পড়ে পানি। সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দাফতরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আর পাশের আরেক ভবনে বসবাস করছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে সিরাজগঞ্জ ফায়ার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, কোনোভাবে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে চলছে সেবাদান কার্যক্রম। ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ৫ মাত্রায় ভূমিকম্প হলে ভবনটি ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের আরেক কর্মী ফায়ার ফাইটার আব্দুর ছবুর তালুকদার বলেন, আমরা ব্যারাকে থাকি। বৃষ্টি হলেই ভবন দিয়ে পানি পড়ে। এ ছাড়া বারান্দা দিয়েও পানি ঢোকে। থাকার মতো পরিবেশ নেই এখানে। যে রুমে থাকি তার ছাদ থেকে প্রায়ই পলেস্তারা খসে পড়ে। সবসময়ই আতঙ্কে থাকতে হয়। নতুন ভবন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, ঝুঁকি নিয়ে আমাদের সেবামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমরা গণপূর্ত বিভাগসহ আমাদের ঊর্ধ্বতন অফিসগুলোতে চিঠি দিয়েছি। ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর দ্বিতীয় শ্রেণির ফায়ার স্টেশন থেকে প্রথম শ্রেণির স্টেশনে রূপান্তরিত করার জন্য আমরা আবেদন করেছি। কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। বিভিন্ন দফতরে কার্যক্রম চলমান আছে।
এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমাদুল হাসান বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত একটি চিঠি পেয়েছি আমরা। সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখেছি, ভবনটির বিভিন্ন জায়গায় ফাটল রয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু প্রথম শ্রেণির জেলা তাই প্রথম শ্রেণির ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অবশ্যই প্রয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬১ সালে পাকিস্তান আমলে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ইলিয়াড ব্রিজের পাশে নির্মাণ করা হয়েছিল সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ভবন। একতলা বিশিষ্ট এই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ভবনের নিচ তলায় রয়েছে পানিবাহী গাড়ির গ্যারেজ ও অফিস। আর ছাদের ওপরে রয়েছে পানি রাখার ট্যাঙ্ক। তবে দীর্ঘদিনের পুরাতন স্থাপনা হওয়ায় বর্তমানে ভবনটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। কোথাও কোথাও ভেঙে পড়েছে প্লাস্টার, বের হয়ে এসেছে বিমের রড। বিভিন্ন সময়ে কয়েকবার টুকটাক মেরামত ও সংস্কার করা হলেও দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থার মধ্যেই চলছে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কার্যক্রম। যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ফায়ার সার্ভিসের নতুন ভবন হলেও সদরের দিকে নজর পড়েনি কারও। ৬৪ বছরের পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে ফায়ার সার্ভিসের সেবাদান কার্যক্রম।
স্থানীয়রা বলছেন প্রথম শ্রেণির জেলার জন্য দরকার প্রথম শ্রেণির ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কিন্তু এই ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম চলছে দ্বিতীয় শ্রেণির মতো। খোদ এই অফিসে কর্মরতরা বলছেন, ভবনের যে অবস্থা তাতে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই ধসে পড়তে পারে ভবনটি। এ ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মাঝেমধ্যেই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে বসেই দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিয়ে আসছেন অফিসে কর্মরত মোট ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে ভবন ধসের আতঙ্কে দিনের পর দিন কাটছে তাদের।
সময়ের আলো/এনএ