রাজস্ব আদায়ে নজিরবিহীন ধস

শহিদুল ইসলাম বেনাপোল

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই রাজস্ব আদায়ে ভয়াবহ ধস নেমেছে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে নির্ধারিত

2026-01-14T04:25:14+00:00
2026-01-14T04:25:14+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
রাজস্ব আদায়ে নজিরবিহীন ধস
শহিদুল ইসলাম বেনাপোল
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২৫ এএম 
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। ছবি : সময়ের আলো
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই রাজস্ব আদায়ে ভয়াবহ ধস নেমেছে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়তি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি বাণিজ্যের স্থবিরতা, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপড়েন এবং বন্দর ও কাস্টমস ব্যবস্থাপনার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা- সব মিলিয়ে এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ উচ্চ শুল্কযোগ্য পণ্যের আমদানি কমে যাওয়া। শিল্পের কাঁচামাল, ইলেকট্রনিক পণ্য, যন্ত্রাংশ ও কেমিক্যাল- এই খাতগুলো থেকেই সাধারণত শুল্ক ও ভ্যাটের বড় অংশ আসে। এসব পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি কাস্টম হাউস ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ অনিয়মও আমদানিকারকদের নিরুৎসাহিত করছে। ব্যবস্থাপনায়ও দুর্বলতা রয়েছে। 

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক লতা বলেন, কাস্টমসের নিচের স্তরের কিছু কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনা অমান্য করে পণ্যের অতিমূল্যায়ন করছেন। এর সঙ্গে বন্দরের বিভিন্ন অনিয়ম ও বিলম্বজনিত অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হওয়ায় আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই উচ্চ শুল্কযোগ্য পণ্য বেনাপোলের বদলে অন্য বন্দর দিয়ে আমদানি করছেন। 

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে এটা আমরা স্বীকার করছি। আমদানি বাণিজ্য কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। তবে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদারে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, অর্থবছরের শেষ দিকে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বেনাপোল কাস্টম হাউসের জন্য রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু এ সময়ে আদায় হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১২০ দশমিক ০৫ কোটি টাকা। ফলে ছয় মাসে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা। 

স্থানীয় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মতে, গত এক দশকের মধ্যে বেনাপোল কাস্টমসে এত বড় পরিসরের রাজস্ব ঘাটতির ঘটনা খুবই বিরল। 

মাসভিত্তিক হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রাজস্ব আদায় হলেও আগস্ট থেকে ধারাবাহিকভাবে ঘাটতির প্রবণতা শুরু হয়। আগস্টে ৪৯৩ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ৪৪৭ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে ৬০১ কোটির বিপরীতে আদায় দাঁড়ায় ৫১৩ দশমিক ৫৮ কোটি টাকা। অক্টোবরে ৬৪৫ কোটির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ৪৪৯ দশমিক ২৮ কোটি টাকা। নভেম্বরে ৭৫৫ কোটির বিপরীতে আদায় হয় ৫৬৪ দশমিক ৪১ কোটি টাকা। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ডিসেম্বরে। এ মাসে এক হাজার ১৩১ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৬০০ দশমিক ৮১ কোটি টাকা। 

কাস্টমস ও বন্দর সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে শীতলতা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে। আগে যেখানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করত, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ ট্রাকে। 

সময়ের আলো/এনএ 

  বিষয়:   রাজস্ব আদায়  নজিরবিহীন ধস 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: