উত্তর মালির ডিরে শহরের কাছে নাইজার নদীতে ফেরি দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাতের অন্ধকারে নোঙর করার সময় পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ডুবে গেছে ফেরিটি। এতে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করেনি, তবে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীরা জানান, যখন ডুবে যায় তখন প্রায় ডজনখানেক নারী এবং শিশু আটকে ছিল এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এলাকার জাতীয় পরিষদের প্রাক্তন ডেপুটি আলকাইদি টুরে জানান, এখন পর্যন্ত ৩৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২৩ জনকে বাঁচানো গেছে। ডিরের বাসিন্দা মুসা আগ আলমোবারক ট্রাওরে, যিনি তার পরিবারের ২১ জন সদস্যকে এ দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন, বলেন, আমি মৃতদেহ শনাক্ত এবং গণনা করতে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করেছি। নদীর ওপারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মৃতদেহগুলো সংগ্রহ করেছি, কিছু ইতোমধ্যেই পচে যাচ্ছিল। আমি এখনও মৃতদেহের গন্ধ পাচ্ছি।
ফেরিটিতে ধানক্ষেত থেকে কৃষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে আসছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদের কারণে ওই এলাকায় রাতের বেলা নৌকা অবতরণ নিষিদ্ধ। বিধিনিষেধ সত্ত্বেও, নৌকা চালক বিকল্প স্থানে অবতরণের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তীরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে নৌকাটি পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দ্রুত ডুবে যায়।
মালি, প্রতিবেশী বুরকিনা ফাসো ও নাইজার সহ প্রায় ২৫ মিলিয়ন মানুষ বসবাসকারী এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ অঞ্চলে একাধারে বিদ্রোহ লেগেই আছে। আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি সংগঠন জামায়াত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম) টিম্বাকটু অঞ্চল জুড়ে সক্রিয়, যেখানে রাতের অন্ধকার নামলেই বেসামরিক চলাচল নিষিদ্ধ।
উত্তর মালি জুড়ে সড়ক যোগাযোগ সীমিত হওয়ায় নদী পরিবহন অত্যাবশ্যক। নাইজার নদীতে দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটে, তবে বৃহৎ পরিসরে রেকর্ড খুবই বিরল। স্থানীয় নেতাদের মতে, বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে মারাত্মক।
টুরে বলেন, টিম্বাকটুর পুরো অঞ্চল শোকাহত। এই দুর্ঘটনা জনগণের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, অনেক নারী ও শিশু এ দুর্ঘটনায় ডুবে মারা গেছে।
/ইউএমএইচ