ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আসন্ন জাতীয় গণভোটকে সামনে রেখে গণতন্ত্র, জনগণের মতামতের মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ডাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে মাসব্যাপী কর্মসূচি তুলে ধরেন ডাকসুর নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল দাবি ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, আর সেই ঐতিহাসিক পথ হিসেবেই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে বঞ্চিত জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো এই গণভোট।
ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য জুলাই শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে জনগণের সুস্পষ্ট সমর্থন। এতে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর স্থায়ী অবসান ঘটবে এবং পিলখানা, শাপলা বা জুলাইয়ের মতো গণহত্যা, গুম-খুন ও ‘আয়নাঘর’-এর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি রোধ হয়ে নাগরিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
তিনি আরো বলেন, এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে জুলাই সনদ কার্যকর হবে, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে, প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ সীমিত হবে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান স্বাধীন হবে এবং নিয়োগ ও নীতিনির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে নারীর প্রতিনিধিত্ব, সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষা ও ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।
ডাকসুর মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোট শুধু নাগরিক দায়িত্ব নয়; এটি শহিদদের রক্তের আমানত রক্ষা। জনসাধারণ, তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোর চূড়ান্ত অবসান ঘটবে এবং একটি টেকসই গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে।
ডাকসুর মাসব্যাপী কর্মসূচিগুলো হলো :
১. দেশের ছাত্র-জনতার সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগ। ২. অনলাইন ক্যাম্পেইন: ই-পোস্টার, ভিডিও, রিলস, লেখা। ৩. প্রদর্শনী বিতর্কে ‘হ্যাঁ’-এর প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন। ৪. সেমিনার: রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও রাজনৈতিক ইশতেহার আলোচনা। ৫. সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়। ৬. প্রিন্ট ও টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা। ৭. মোবাইল সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়। ৮. অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে মতবিনিময়। ৯. ‘জুলাই আহতদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা। ১০. গান, কবিতা ও ডকুমেন্টারি প্রকাশ। ১১. বক্তৃতা প্রতিযোগিতা: তারুণ্যের ভাবনা। ১২. পথনাটক ও মাইম প্রদর্শনী। ১৩. ছাত্র সংগঠনসমূহের সঙ্গে মতবিনিময়। ১৪. সামাজিক সংগঠনসমূহের সঙ্গে মতবিনিময়। ১৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সফর ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করা।
সময়ের আলো/জেডআই