৩১ ডিসেম্বর ছিল প্রয়াত লালনসম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুবার্ষিকী। শিল্পীর মৃত্যুর পর প্রথম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে অশ্রুসিক্ত হন বর্ষীয়ান গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিন। অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন, আমি একবার দুটি লালনগীতি শেখার জন্য ফরিদা পারভীনের বাসায় গিয়েছিলাম।
আমাকে এত যত্ন করে গান শেখাল মনে হলো যেন আমি একটা ছোট বাচ্চা মেয়ে। বাচ্চাদের যেভাবে শেখাতেন ঠিক সেভাবে যত্ন করে সুন্দরভাবে আমাকে লালনগীতি শেখালেন। সেই স্মৃতি কখনোই ভুলব না। তিনি শুধু লালনগীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। আধুনিক গান, নজরুল গীতি, দেশের গান গেয়েছেন।
সাবিনা ইয়াসমিন আরও বলেন, ফরিদা কত বড় শিল্পী ছিলেন আমরা প্রত্যেকেই জানি। বিদেশিদের সামনে লালনকে তুলে ধরেছেন। এর আগে কোনো শিল্পী লালনকে এ রকমভাবে তুলে ধরতে পারেননি। ফরিদা যখন লালনগীতি গাওয়া শুরু করলেন তার আগে আমরা লালনের গান তেমন শুনতাম না।
শুনতে পেতাম না। কারণ এমন কোনো শিল্পী ছিলেন না যিনি শুধু লালনসংগীতই পরিবেশন করেন কিন্তু ফরিদা আসার পর থেকে যেভাবে লালনের গানের প্রসার শুরু হলো সেটা একটা আশ্চর্যের ব্যাপার।
সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, এত সুন্দর সুললিত কণ্ঠ, দরাজ গলায় মিষ্টি করে গান গাওয়া, গানের মধ্যে ডুবে যাওয়া সেটা ফরিদার পক্ষেই সম্ভব ছিল আর মানুষ হিসেবেও এত বিনয়ী, নম্র ও ভদ্র। এককথায় তিনি অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন। এ রকম একটা অনুষ্ঠানে আমাকে আসতে হবে এবং ফরিদা সম্পর্কে এভাবে কথা বলতে হবে।
যাই হোক সবই আল্লাহর ইচ্ছা। আমরা সবাই দোয়া করব। দোয়া করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই। আপনারা সবাই ফরিদার জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোত্তম জায়গায় রাখেন।
উল্লেখ্য, ফরিদা পারভীনের জন্মদিন ৩১ ডিসেম্বর পালন করার কথা থাকলেও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে জন্মদিনের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে দিনটি উদযাপন করে গায়িকার হাতেগড়া প্রতিষ্ঠান ‘অচিন পাখি সংগীত একাডেমি’।
সময়ের আলো/কেএইচও