মার্কিন-ইরান যুদ্ধের অশনিসংকেত

সময়ের আলো ডেস্ক

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে দেশটির বিচার বিভাগ বিক্ষোভের

2026-01-15T02:34:54+00:00
2026-01-15T02:34:54+00:00
 
  রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬,
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
মার্কিন-ইরান যুদ্ধের অশনিসংকেত
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৪ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে দেশটির বিচার বিভাগ বিক্ষোভের দায়ে দ্রুত বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তেহরানের বিরুদ্ধে ‘খুবই শক্ত পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা বৃদ্ধির মধ্যে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নাম গোপন রাখার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বুধবার বলেছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত হয়ে গেছে। 

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়তে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ সন্নিকটে। তবে তেহরান হুঁশিয়ার করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাবে তেহরান। নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকেও সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে তেহরান। খবর বিবিসি, সিএনএন, এবিসি নিউজ, আলজাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ানের।

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা :
ইরানে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই  নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ বা নির্ভরযোগ্য হিসাব প্রকাশ করেনি তেহরান। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি থেকেই যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৭১ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। একই সঙ্গে আরও ৭৭৯টি সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিতভাবে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২ হাজার ৪০৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক বিক্ষোভকারী, ১৮ বছরের কম বয়সি ১২ জন শিশু, ১৪৭ জন সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ৯ জন সাধারণ নাগরিক যারা সরাসরি বিক্ষোভে অংশ নেননি।

এ ছাড়া বিক্ষোভ দমনের সময় ১ হাজার ১৩৪ জনের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ১৮ হাজার ১৩৭ জনের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এইচআরএএনএ। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যান ইরানের ভেতরে ও বাইরে থাকা কর্মী, চিকিৎসক, আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমটি নিজে থেকে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

ইরান সরকার বরাবরের মতোই এই পরিসংখ্যান প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী নিহতদের বড় অংশই ‘সন্ত্রাসী’, ‘দাঙ্গাবাজ’ ও ‘বিদেশি মদদপুষ্ট সহিংস গোষ্ঠীর সদস্য’। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বলছে, নিহতদের বড় অংশই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী, যাদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইঙ্গিত : এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে ইরানের বিচার বিভাগের বক্তব্য। বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই প্রকাশ্যে দ্রুত বিচার সম্পন্নের নির্দেশনা দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘কিছু করতে হলে এখনই করতে হবে। দুই-তিন মাস পরে করলে এর কোনো প্রভাব থাকে না।’

এই বক্তব্যকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরাসরি দ্রুত বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হুমকি হিসেবে দেখছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্ক বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে শত্রুতা’-এর মতো অভিযোগ এনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে তরুণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনার প্রবণতা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অতীতে এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে ইরানে একাধিকবার দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার নজির রয়েছে।

এরফান সোলতানির মামলা : ২৬ বছর বয়সি এরফান সোলতানির মামলা এই আশঙ্কাকে আরও বাস্তব করে তুলেছে। তার পরিবারের সদস্যরা বিবিসি পার্সিয়ানকে জানিয়েছেন, গ্রেফতারের মাত্র দুদিনের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাওর প্রতিনিধি আওয়ার শেখি বলেন, ‘আমরা কখনো দেখিনি কোনো মামলা এত দ্রুত এই পর্যায়ে পৌঁছাতে।’ সোলতানির পরিবারের আশঙ্কা, কোনো ধরনের আগাম নোটিস ছাড়াই তাকে ফাঁসি দেওয়া হতে পারে। এই মামলাকে কেন্দ্র করে ইরানের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন হুমকি সত্ত্বেও দ্রুত বিচারের ঘোষণা : বিক্ষোভে গ্রেফতার সন্দেহভাজনদের দ্রুত বিচারের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যদি কেউ কাউকে পুড়িয়ে দেয়, শিরñেদ করে এবং আগুনে ফেলে দেয়, তা হলে দ্রুত আমাদের কাজটি করতে হবে।’ 

এএফপি জানায়, বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের রাখা একটি কারাগার পরিদর্শনের সময় এসব মন্তব্য করেন মোহসেনি-এজেই। ইরানের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা তার উদ্ধৃতি দিয়ে আরও জানিয়েছে, এসব মামলার বিচার ‘প্রকাশ্যে’ হওয়া উচিত। এ সময় তিনি তেহরানের একটি কারাগারে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা কাটিয়ে বন্দিদের মামলাগুলো পর্যালোচনা করেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বিক্ষোভের জেরে ইরানে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের আশঙ্কা, বিচার বিভাগ ব্যাপকভাবে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রয়োগ করতে পারে।

মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ : ইরানে প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। 

ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক মাই সাতো বলেন, মৃত্যুদণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর না করা হলেও এই শাস্তি দেওয়ার ঘোষিত অভিপ্রায়ই অবৈধ। পাশাপাশি একজন বিক্ষোভকারীকে ‘মোহারেবেহ’- অর্থাৎ ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রুতা’র অভিযোগে দণ্ডিত করার ঘটনা স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।

মাই সাতোর ভাষায়, এসব পদক্ষেপ ‘সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি চরম অবজ্ঞা’ প্রকাশ করে। তিনি বলেন, ‘যে দেশে সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্মানিত হয়, সেখানে মৃত্যুদণ্ড কোনোভাবেই তার জবাব হতে পারে না।’ এই মন্তব্য আসে তেহরানের কৌঁসুলি দফতরের এক বিবৃতির পর, যেখানে বলা হয়েছে- বিক্ষোভের ঘটনায় আটক অনির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘মোহারেবেহ’ অভিযোগ আনা হবে। ইরানি আইনে এটি একটি গুরুতর অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি : এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিবিসির মার্কিন অংশীদার এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যদি তারা বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়, তা হলে আপনারা কিছু দৃশ্য দেখতে পাবেন। আমরা খুবই শক্ত পদক্ষেপ নেব।’ 

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘ইরানের দেশপ্রেমিকরা, প্রতিবাদ চালিয়ে যান।’ তিনি ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল কূটনৈতিক চাপ নয়, বরং সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করছে।

পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি তেহরানের : ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরপরই তেহরান পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তা হলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হবে।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কাতার, ইউএই ও তুরস্ককে সতর্ক করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউএই ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।

ওয়াশিংটন-তেহরান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন : চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সংকট ব্যবস্থাপনার পথ আরও সংকুচিত করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাতারের দোহায় অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু সেনাকে সরে যেতে বলেছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন।

মার্কিন হামলা কি সন্নিকটে : এসব ঘটনার সমন্বয়ে প্রশ্ন উঠছে, মার্কিন হামলা কি সত্যিই সন্নিকটে? বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান পরিস্থিতিকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে সামান্য ভুল হিসাব বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এর আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নজির রয়েছে। ফলে নতুন সংঘাত শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

‘সর্বোচ্চ প্রস্তুত’ ইরানের সেনাবাহিনী : যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যেকোনো হামলার মোকাবিলায় ইরানের সেনাবাহিনী এখন ‘সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি’ অবস্থায় রয়েছে এবং ‘সব ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত’- এমনটাই বলেছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিমানবাহিনীর কমান্ডার। বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে কমান্ডার সারদার মুসাভি বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে ওই সময়কালে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা পুরোপুরি মেরামত করা হয়েছে। তার ভাষায়, এসব পদক্ষেপের ফলে বাহিনী এখন ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুতি অবস্থায়’ রয়েছে এবং যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।

ইরানের চলমান বিক্ষোভ এখন আর কেবল একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট নয়। এটি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক মানবিক ও নিরাপত্তা সংকটে। নিহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা, দ্রুত বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা, ওয়াশিংটন-তেহরানের কূটনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি; সব মিলিয়ে ইরান এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যার পরিণতি শুধু দেশটির ভেতরেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

সময়ের আলো/কেএইচও



  বিষয়:   মার্কিন  ইরান  যুদ্ধ  অশনিসংকেত 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: