কম্পিউটার অপারেটর এক মাসে হাতিয়ে নিল ১১ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য- জাতীয় নির্বাচন কমিশনের একজন অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মাত্র এক মাসে ‘আয়’ করেছে ১১ কোটি টাকা। রাতারাতি

2026-01-16T01:32:11+00:00
2026-01-16T01:32:11+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
কম্পিউটার অপারেটর এক মাসে হাতিয়ে নিল ১১ কোটি টাকা
এনআইডির গোপন তথ্য বিক্রি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩২ এএম 
এনআইডির তথ্য বিক্রি করে কোটি টাকা আয় করেছে কর্মকর্তা। ছবি : সংগৃহীত
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য- জাতীয় নির্বাচন কমিশনের একজন অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মাত্র এক মাসে ‘আয়’ করেছে ১১ কোটি টাকা। রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া এই কম্পিউটার অপারেটর ঢাকায় কিনেছে ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদ। আর এ সবকিছুই সে করেছে সাধারণ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সংবেদনশীল তথ্য বিক্রি করে।

এই অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরের নাম মো. হাবীবুল্লাহ। তাকেসহ গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের আরেক সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধী তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার।

তিনি জানিয়েছেন, মো. হাবীবুল্লাহ মাত্র ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছে। প্রতিটি তথ্য ২০০-৩০০ টাকা হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে।

ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন অফিস এলাকা থেকে মো. আলামিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ১২টা ১০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে চক্রের অন্য সদস্য মো. হাবীবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আলামিন ২০১৬ সাল থেকে ঢাকার নির্বাচন কমিশন অফিসে ডাটা এন্ট্রি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পাদন করত। তার ব্যবহৃত গোপনীয় আইডি ও পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে সারা দেশের জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার সুযোগ ছিল। অন্যদিকে হাবীবুল্লাহর কাছে থাকা আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে কেবল গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের আওতাভুক্ত নাগরিকদের তথ্য যাচাই করা সম্ভব ছিল।

ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড সে পূর্বপরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে মো. হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করে। এর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ নিত মো. আলামিন।

অন্যদিকে মো. হাবীবুল্লাহ ওই গোপন আইডি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের সংবেদনশীল তথ্য জনপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করত।

জাতীয় নির্বাচন কমিশন, ঢাকার একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহে ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেখা হয়েছে।

প্রতিটি এনআইডি তথ্যের বিপরীতে ৩০০ টাকা করে হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে হাবীবুল্লাহ ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করত বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে উঠে এসেছে।

দীর্ঘদিন এই চক্রের সদস্যরা পরস্পরের যোগসাজশে ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এনআইডির মূল সার্ভারে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ করত। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে এসব তথ্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা স্বীকার করেছেন।

ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার আরও বলেন, এ অর্থ দিয়ে মো. হাবীবুল্লাহ ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়েছে এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করত।

গ্রেফতাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, দীর্ঘদিন ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভারে প্রবেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে তথ্য বিক্রি করত। এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির এই ডিআইজি বলেন, এ চক্রে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

তদন্তে আরও জানা যায়, আলামিন ২০১৬ সাল থেকে ঢাকার নির্বাচন কমিশন অফিসে ডাটা এন্ট্রি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পাদন করত। তার ব্যবহৃত গোপনীয় আইডি ও পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে সারা দেশের জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার সুযোগ ছিল।

অন্যদিকে হাবীবুল্লাহর কাছে থাকা আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে কেবল গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের আওতাভুক্ত নাগরিকদের তথ্য যাচাই করা সম্ভব ছিল।

সময়ের আলো/এসকে/ 



  বিষয়:   এনআইডি  গোপন তথ্য  কম্পিউটার অপারেটর 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: