শীত
মৌসুম চললেও থামছে না নদীভাঙন। নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরকিং
ইউনিয়নের চরবগুলা গ্রামে অব্যাহত নদীভাঙনে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বেড়িবাঁধ ও
পুরো জনপদ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে যেকোনো সময়
বেড়িবাঁধ ভেঙে পুরো গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শীত মৌসুমেই
জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙন রোধের দাবি তুলেছেন গ্রামের
বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে হাতিয়া উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, চরবগুলা গ্রামের পশ্চিম
পাশে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্ষার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার
দাবিতে স্থানীয়রা আবেদন করেছেন। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.
আলাউদ্দিন আরও বলেন, এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে
আলোচনা হয়েছে। দ্রুত আমরা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
চরবগুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান
শিক্ষক আবুল বাসার বলেন, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে বসে নদীর গর্জন শুনতে হয়।
বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার আগেই ভাঙন রোধ করা না গেলে পরে তা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই
কঠিন হবে। তখন ভাঙন ঠেকাতে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। এখন মাত্র এক
কিলোমিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেললেই বড় ধরনের ক্ষতি থেকে গ্রামটিকে রক্ষা
করা সম্ভব। বিষয়টি আমরা একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি।
এদিকে
নদীভাঙন রোধে আশু পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন
করেছেন চরবগুলা গ্রামবাসী। চরবগুলা গ্রামের পশ্চিম পাশে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে
এই মানববন্ধনে অংশ নেন তিন শতাধিক নারী-পুরুষ। এতে গ্রামের বৃদ্ধ, যুবক,
শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ একাত্মতা
প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে চরবগুলা
গ্রামটি নদীভাঙনের শিকার। আগে ভাঙনের গতি তুলনামূলক কম থাকলেও বর্তমানে তা
ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাঝনদীতে ডুবো চর জেগে ওঠায় স্রোতের দিক পরিবর্তন
হয়েছে। ফলে এই এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বহুগুণে বেড়েছে। তারা জানান, নদী ভেঙে
এখন বেড়িবাঁধের একেবারে কাছে চলে এসেছে। এই বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে ভাঙনের গতি
কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। এমনটা ঘটলে গ্রামের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
চারটি মসজিদ, একটি বাজারসহ অসংখ্য বসতঘর মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার
আশঙ্কা রয়েছে। একেবারে নদী তীরেই অবস্থিত চরবগুলা সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়। তিন তলা এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা
করছে। নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের মানবিক
বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সময়ের আলো/এসকে/