৮ বছরের শিশুর করুণ মৃত্যু
মেয়েকে নিয়ে খালে ঝাঁপ দিলেন মা
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৬ এএম (ভিজিট : ১৫৭)
এ ঘটনায় মা বেঁচে ফিরলেও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত চট্টগ্রাম
জেলার আনোয়ারা উপজেলায় এক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিজের মেয়েকে
নিয়ে খালে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে জান্নাতুল ফেরদৌস (৩২) নামের এক
গৃহবধূ। পরে স্থানীয়রা গৃহবধূকে জীবিত উদ্ধার করলেও শিশু রাইছার (৮) করুণ
মৃত্যু হয়। মা জান্নাতুল ফেরদৌসকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন
অবস্থায় রয়েছেন তিনি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আনোয়ারা সার্কেলের এএসপি
সোহানুর রহমান সোহাগ।
বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার খাদ্যগুদামের পাশে ইছামতী খালে হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটে।
শিশুটির
মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক
ডা. মুছাররাত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায়
শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার মা চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান
ডা. মুছাররাত।
উদ্ধারকারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো.
আব্দুল্লাহ জানান, একজন ভ্যানচালকের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মা-মেয়েকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে
আনোয়ারা সার্কেলের এএসপি সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, শিশুটির মরদেহ
ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর তার মায়ের চিকিৎসার জন্য
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
জান্নাতুল
ফেরদৌসের মা খাদিজা আক্তারের দাবি, শাশুড়ির অত্যাচারে তার মেয়ে জান্নাতুল
ফেরদৌস নাতনিকে নিয়ে খালে ঝাঁপ দেয়। তিনি এই ঘটনার জন্য মেয়ের শ্বশুরবাড়ির
লোকজনকে দায়ী করেন।
জান্নাতুল ফেরদৌসের শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানান,
প্রতিদিনের মতো মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হন জান্নাতুল ফেরদৌস।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান রাইছা মারা গেছে এবং তার
মা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে
মা-মেয়ের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না গেলেও পরে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়। জানা
যায়, নিহত রাইছা এবং চিকিৎসাধীন জান্নাতুল ফেরদৌস আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন
ইউনিয়নের সৈয়দ কুচাইয়া হাজি আফজাল আহমদের বাড়ির প্রবাসী কায়সারের মেয়ে ও
স্ত্রী। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মাঝে রাইছা সবার ছোট। সে উপজেলার একটি
কিন্ডারগার্টেনে কেজি স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। তার মা জান্নাতুল ফেরদৌস
উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সুজারমল্লা পাড়ার আব্দুল লতিফের মেয়ে।
সময়ের আলো/এসকে/