আজ বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ১০৯তম জন্মদিন। তিনি শুধু রাজনীতিক ও মুক্তিকামী নেতা ছিলেন না, বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতার অগ্রণী সংগ্রামীদের অন্যতম দিকনির্দেশকও ছিলেন।
১৯১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের কুড়িপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মনসুর আলী। তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা শেষে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন এবং পরে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও আইন (এম.এ ও এলএলবি) বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের আগে মনসুর আলী রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৪৮ সালে তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্টে প্রশিক্ষণ নিয়ে পিএলজি এর ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্বরত হন এবং সেই থেকে ‘ক্যাপ্টেন মনসুর’ নামে পরিচিত হন। ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পরিচিত হন এবং ১৯৫১ সালে আওয়ামী-মুসলিম লীগে যোগ দিয়ে পাবনা জেলা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনে মনসুর আলী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে তিনি পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে গঠিত বাংলাদেশ সরকারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে দেশের স্বাধীনতায় অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখেন।
স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালে সরকার পুনর্গঠন করলে মনসুর আলী যোগাযোগ ও পরে স্বরাষ্ট্র ও যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের নির্বাচনে পুনরায় পাবনা-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তৎকালীন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
দুঃখজনক হলেও সত্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মনসুর আলীও সপরিবারে নিহত হন। তার নৃশংস হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অমোচনীয় দাগ রেখে গেছে।
আজকের দিনে আমরা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও অনন্য নেতৃত্বকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, বরং দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করা এক আদর্শ নাগরিকও ছিলেন।
/ইউএমএইচ