চিকিৎসকবিহীন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

শামীম শিকদার কাপাসিয়া (গাজীপুর)

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গর্ভবতী মায়েদের সিজারসহ প্রসূতি সেবা এবং শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রায় ছয় বছর

2026-01-17T02:00:24+00:00
2026-01-17T02:00:24+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
চিকিৎসকবিহীন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
শামীম শিকদার কাপাসিয়া (গাজীপুর)
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০০ এএম 
ফাইল ছবি
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গর্ভবতী মায়েদের সিজারসহ প্রসূতি সেবা এবং শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রায় ছয় বছর আগে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাবুর, দুর্গাপুর ইউনিয়নের তারাগঞ্জ এবং রায়েদ ইউনিয়নের দরদরিয়া গ্রামে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। তবে উদ্বোধনের পর আজ পর্যন্ত এসব হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়নি। অবকাঠামো আছে, নেই চিকিৎসক। সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালগুলোতে শয্যা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ডরমেটরি, বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিকল্প ব্যবস্থায় জেনারেটর রয়েছে। রয়েছে আধুনিক অস্ত্রোপচার কক্ষ, ওয়ার্ড ও কেবিন কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এসব সুবিধা কোনো কাজে আসছে না। 

স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার ২ জন, ফার্মাসিস্ট ১ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ১ জন, অফিস সহকারী ১ জন, অফিস সহায়ক ১ জন এবং পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ৪ জন। এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। 

ফার্মাসিস্ট নুরে আলম বলেন, রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসক না থাকায় আমাকেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ দিতে হয়। গুরুতর রোগীদের উপজেলা বা জেলা হাসপাতালে পাঠাতে হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে যাওয়া রোগীরা জানান, হাসপাতাল উদ্বোধন হয়েছে ঠিকই কিন্তু এখানে কোনো ডাক্তার বা নার্স নেই। ভর্তি নেওয়া হয় না, ওষুধও পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে গাজীপুর সদর হাসপাতাল বা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুদিক থেকেই ভোগান্তি বাড়ছে।

পাবুর গ্রামের আব্দুল বাতেন বলেন, ডাক্তার-নার্স না থাকায় এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাবুর হাসপাতালসংলগ্ন ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান বলেন, হাসপাতাল চালু হওয়ার পর থেকে কোনো ডাক্তার-নার্স দেখি নাই। আমরা চিকিৎসাসেবা পাই না। দেওনা গ্রামের ফরিদা খাতুন বলেন, আগে গেলে ওষুধ দিত, এখন আর দেয় না। ওষুধ থাকলেও ডাক্তার নাই। গেলেই কাপাসিয়া হাসপাতালে পাঠায়।

দরদরিয়া গ্রামের জিনু মিয়া বলেন, জ্বর-ঠান্ডা হলে আগে এখানে ওষুধ নিতাম। এখন গেলে কিছুই পাওয়া যায় না। স্থানীয়রা জানান, হাসপাতাল ভবন নির্মাণের সময় তারা আশাবাদী ছিলেন যে গর্ভবতী মা ও শিশুদের আর দূরে যেতে হবে না। কিন্তু বছরের পর বছর জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এসব হাসপাতাল এখন হতাশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব হাসপাতাল জনবল সংকটের কারণে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফ নিয়োগ না দিলে সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো একসময় নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।  স্থানীয়দের একটাই দাবি, দ্রুত পাবুর, তারাগঞ্জ ও দরদরিয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও জনবল নিয়োগ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা হোক। কাপাসিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছা. রহিমা খাতুন জানান, অবকাঠামো আছে তবে আমাদের লোকবল দেওয়া হয়নি। যার কারণে আমরা চালু করতে পারছি না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এএডি/


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: