চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রধান ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র বড়স্টেশন মাছঘাট চরম সংকটের মুখে। গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই ইলিশের সরবরাহ ক্রমশ কমতে শুরু করে, যা এখন প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। এমনকি ইলিশের ভরা মৌসুমেও কাক্সিক্ষত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েনি এই অঞ্চলে।
জেলেদের ভাষ্য- পদ্মা-মেঘনায় আগের মতো ইলিশের ঝাঁক দেখা যাচ্ছে না। এতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বড়স্টেশন মাছঘাটে। একদিকে যেমন ইলিশের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, অন্যদিকে তেমনি কয়েকগুণ বেড়েছে দাম। ফলে ক্রেতা সংকটে পড়েছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা।
বিশেষ করে বর্তমানে ইলিশের মৌসুম না থাকলেও বিগত বছরগুলোতে এই সময় বড়স্টেশন মাছঘাটে প্রতিদিন আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ মণ ইলিশের সরবরাহ থাকত। কিন্তু এবার সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমানে দৈনিক সরবরাহ ২০ মণেও পৌঁছাচ্ছে না, যা এই মাছঘাটের ইতিহাসে বিরল। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ইলিশ কিনতে আসা সুমন রহমান বলেন, ইলিশ প্রিয় মাছ হলেও দামের কারণে এখন অপ্রিয় হয়ে উঠছে। বড়স্টেশন মাছঘাটে এসে ইলিশের দাম এতটাই বেশি যে পছন্দমতো বা প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আগে যে দামে মাঝারি আকারের ইলিশ কেনা যেত, এখন সেই টাকায় ছোট মাছও পাওয়া যাচ্ছে না। ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
ইলিশ ব্যবসায়ী মনছুর আহমেদ মাহিন বলেন, ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি কমছে, ফলে আড়তে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়া নদীতে মাছ না থাকায় জেলেরা জাল ফেলেও কাক্সিক্ষত ইলিশ পাচ্ছেন না। ঘাটে ইলিশ কম আসায় মূলত দাম বেশি। এখনকার বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আর এক কেজি ওজনের নিচের ইলিশ ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আর ছোট সাইজের ইলিশ ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরেক ব্যবসায়ী বিজয় সরকার বলেন, অনসিজনে ইলিশের বিক্রি নেই বললেই চলে। মাছঘাটে ইলিশও কম, দামও বেশি। যার কারণে ক্রেতারা ঘাটে আসলেও না কিনে চলে যায়। আমরা ব্যবসায়ীরা চাই ইলিশের সরবরাহ বাড়ুক আর দামও যাতে নাগালের মধ্যে থাকে।
এএডি/