হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ে বইছে টানা শৈত্যপ্রবাহের দাপট। গত ১২ দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে অবস্থান করছে। দিনে রোদ থাকার কারণে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও রাতভর তা নেমে আসে যেন জিরো ডিগ্রির ঘরে। দেশের শীতলতম স্থানের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উত্তরের এ জেলা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার রেকর্ড হয়েছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। গত ৯ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ও গত ৬ জানুয়ারি হতে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে উত্তরের এ জেলায়।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোর সকালেই কুয়াশা ভেদ করে উঠে গেছে সূর্য। তবে রোদে তেজ নেই। বাতাসের আর্দ্রতা শতভাগ থাকায় শীতের কামড় অনুভূত হচ্ছে হাড় পর্যন্ত। রাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত কনকনে শীতের প্রকট থাকায় বিপাকে জীবনযাপন করছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তীব্র শীত উপেক্ষা করেই জীবনযুদ্ধে নেমেছেন প্রান্তিক মানুষগুলো। মহানন্দা আর ডাহুক নদীর বরফশীতল পানিতে নেমে পাথর ও বালু তুলতে হচ্ছে শ্রমিকদের।
জুয়েল ও আরশেদের পাথর শ্রমিকরা বলছেন, নদীর পানিতে নামলে শরীর কেঁপে ওঠে, হাত-পা অবশ হয়ে যায়। তবুও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে এই কষ্ট সইতেই হয়।
স্থানীয়রা জানান, হিমালয় থেকে ধেয়ে আসা কনকনে ঠান্ডা বাতাসে কাঁপতে হচ্ছে আমাদের। দিনের বেলা ঝলমলে রোদের দেখা মিললেও সূর্য ডুবলেই বাড়ছে কনকনে ঠান্ডা। রাতে চারপাশ যেন পরিণত হচ্ছে বরফে।
শীতের দাপটে লন্ডভন্ড জনস্বাস্থ্যও। ঘরে ঘরে জ্বর ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ভিড় বেড়েছে। বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে দিশেহারা অভিভাবকরা। রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘তাপমাত্রা উঠানামা করছে। আজ সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ১২ দিন ধরে টানা শৈত্যপ্রবাহের কবলে রয়েছে এ জেলা। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রিতে উঠলেও রাতের বেলায় তা দ্রুত কমে যাচ্ছে। ফলে রাতে ও ভোরে শীতের অনুভূতি তীব্রতর হচ্ছে।’
সময়ের আলো/কেএইচও