অসময়ের ভাঙনে বিলীন স্থায়ী বাঁধ

মোস্তফা কামাল, নড়াইল

ক্যালেন্ডারের পাতায় এখন মাঘের শীত। চারদিকে যখন কুয়াশার চাদর আর কনকনে ঠান্ডা, তখন নড়াইলের মহাজন এলাকায় বইছে তীব্র নদীভাঙন আতঙ্ক।

2026-01-18T02:44:18+00:00
2026-01-18T02:44:18+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
আতঙ্কে ৫ গ্রামের মানুষ
অসময়ের ভাঙনে বিলীন স্থায়ী বাঁধ
মোস্তফা কামাল, নড়াইল
প্রকাশ: রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৪ এএম 
নড়াইলে নবগঙ্গা নদীর অব্যাহত গর্জনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে মহাজন পয়েন্টের ২ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী বাঁধটি। ছবি : সংগৃহীত
ক্যালেন্ডারের পাতায় এখন মাঘের শীত। চারদিকে যখন কুয়াশার চাদর আর কনকনে ঠান্ডা, তখন নড়াইলের মহাজন এলাকায় বইছে তীব্র নদীভাঙন আতঙ্ক। ভরা বর্ষা না আসতেই নবগঙ্গা নদীর অব্যাহত গর্জনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে মহাজন পয়েন্টের ২ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী বাঁধটি। শীতকালেই এমন আগাম ভাঙন দেখা দেওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটছে নদী পাড়ের হাজার হাজার মানুষের। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে সামনের বর্ষা মৌসুমে মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাবে মহাজন বাজার, স্কুল ও ইউনিয়ন পরিষদসহ গুরুত্বপূর্ণ অসংখ্য স্থাপনা।

সরেজমিন দেখা গেছে, ২০০৫ সালে নির্মিত এই স্থায়ী বাঁধটির অধিকাংশ ব্লকের বাঁধন এখন আলগা হয়ে গেছে। নদীর স্রোতে ব্লকগুলো সরে গিয়ে ভেতরের মাটি বেরিয়ে আসছে। বিশেষ করে মহাজন, ঘষিবাড়িয়া ও গন্ধর্ব্যখালী এলাকায় বাঁধের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। স্থানীয়দের দাবি, বাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে এই অঞ্চলের ৫০০ পাল ও জেলে পরিবার সর্বস্ব হারাবে। হুমকির মুখে রয়েছে মহাজন বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ অন্তত ২০টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

নদীভাঙনের শিকার ঘষিবাড়িয়া গ্রামের এক বৃদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, জীবদ্দশায় ৭ বার ঘর হারিয়েছি। শেষ বয়সে ছেলের বাড়িতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছিল, এখন সেই আশ্রয়টুকুও মনে হয় গাঙে নিয়ে যাবে। রাতে আতঙ্কে ঘুম আসে না।

মহাজন বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, সামনে বর্ষা এলে এই বাজার আর থাকবে না। বাজার না থাকলে আমাদের রুজি-রোজগার সব বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা নিঃস্ব হয়ে পথে বসব। ইতিমধ্যেই বাঁধ সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে কয়েক হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়বে।
বাঁধের নাজুক অবস্থার কথা স্বীকার করেছেন নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে নির্মিত এই বাঁধটি বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ব্লকগুলো সরে গিয়ে মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এটি পুনরায় নির্মাণের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি তহবিল চেয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।

নদী পাড়ের মানুষের দাবি, বর্ষা আসার আগেই যেন টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে তারা ভিটেমাটি হারানোর ভয় থেকে মুক্তি পায়। 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: