ইসির ওপর চাপ গড়াবে ভোটেও

শাকিল আহমেদ

প্রচার শুরুর আগেই নানা ইস্যুতে চারদিক থেকে চাপ বাড়ছে নির্বাচন কমিশনের ওপর। প্রতীক বরাদ্দের আগেই লাগামহীন প্রচার, আচরণবিধির ধারাবাহিক লঙ্ঘন,

2026-01-19T02:03:04+00:00
2026-01-19T02:03:04+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
ইসির ওপর চাপ গড়াবে ভোটেও
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০৩ এএম   (ভিজিট : ১৬৫)
সংগৃহীত ছবি
প্রচার শুরুর আগেই নানা ইস্যুতে চারদিক থেকে চাপ বাড়ছে নির্বাচন কমিশনের ওপর। প্রতীক বরাদ্দের আগেই লাগামহীন প্রচার, আচরণবিধির ধারাবাহিক লঙ্ঘন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিতর্ক, প্রার্থীদের ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে প্রতিদিনই উত্তেজনা বাড়ছে ভোটের মাঠে। 

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঢিলেঢালা আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অসহায়ত্ব এবং প্রার্থীদের আক্রমণাত্মক আচরণ। 

ফলে নির্বাচনের আগেই ইসির নিয়ন্ত্রণক্ষমতা নিয়ে আস্থা হারানোর কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, পরিস্থিতি এখনই কঠোরভাবে সামাল না দিতে না পারলে ভোটের দিন নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গতকাল শেষ হয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে বিরুদ্ধে ইসির আপিল শুনানি। আজ ও কাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন। এরপরও মাঠে গড়াবে প্রচার। শুরু হবে ভোট যুদ্ধ। কিন্তু মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পর ও প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচার শুরু করেছে প্রার্থীরা।

বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে কিংবা প্রাকাশ্যে প্রচারপত্র বিলি করছে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। যা নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন শোকজ করলেও তাতে খুব একটা ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আচরণবিধি প্রতিপালনের দায়িত্বে থাকাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। এতে করে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নির্বাচনের স্বাভাবিক কার্যক্রম। বিভিন্ন স্থানে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে এরই মধ্যে অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে।

প্রতীক বরাদ্দের আগেই গত শনিবার বিকালে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ ৮ নং ওয়ার্ডের গ্রামবাসী আয়োজিত নির্বাচনি উঠান বৈঠক করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার হাসান খান সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনি আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ তুললে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান রুমিন। 

তিনি বলেন, সব জায়গায় সভা হচ্ছে আপনি পারলে থামান, আজকে আমি ভদ্রতা দেখিয়েছি। নেক্সটটাইম এই ভদ্রতাটা করব না। আজকে আমি আঙুল তুলে বলে যাচ্ছি। আজকে শুনছি কিন্তু ভবিষ্যতে আর শুনব না। আমার এই মানুষগুলো দেখছেন, এখান থেকে বের হতে পারবেন না। আমি যদি না বলি এখান থেকে বের হতে পারবেন না স্যার। মাথায় রাইখেন। এক পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শাসিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে ইসির ভূমিকা নিয়েও।

জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের ভোটার মারুফ খান সময়ের আলোকে বলেন, পরিস্থিতি বুঝে যতটুকু মনে হয়েছে নির্বাচন কমিশনের আরও কঠোর হওয়া দরকার। এখনই চাপ সামলাতে না পারলে ভোটের দিন কিংবা কাছাকাছি সময়ে ব্যালট বাক্স ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে। ভোটের আগেই কঠিন বার্তা দিতে হবে। না হয় কোনোভাবেই সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হবে না।

গাজীপুর-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দেখলাম অনেক ছোট ভুলে অনেকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে আবার বড় ভুলেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

এখানে একটা বৈষম্য করা হয়েছে। একেক রিটার্নিং কমকর্তা একেক রকম মনোভাব। এখন সেই রিটার্নিং কর্মকর্তারাই নির্বাচন পরিচালনা করবে সুতরাং শঙ্কা তো থাকেই। এ ছাড়া এই ইসির মধ্যে তেমন কোনো সক্ষমতা দেখছি না। সুতরাং শঙ্কা তো রয়েছেই। আগের ইসির মতোই। বড় দলগুলোকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। এখনও আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়নি শুরু হলে বোঝা যাবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম সময়ের অলোকে বলেন, এখনই সবকিছু কন্ট্রোল করা না গেলে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাবে। পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যেতে পারে। এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে এটি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো অপশন নেই। নির্বাচন শব্দটা খুব সেনসেটিভ এটি নিয়ে যদি কেউ ছোট্ট একটি অভিযোগও করে সেই অভিযোগটাও খতিয়ে দেখতে হবে যে কতটা সত্য বা মিথ্যা। 

খতিয়ে দেখার পরে এটি জনগণকে জানাতে হবে। এটি করলে নির্বাচনের ওপর মানুষের আস্থা বাড়বে। আর যদি কমিশন কোনো অ্যাকশন না নেয় তখন মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে এবং রাজনৈতিক দলগুলো অস্থির হয়ে যাবে। এ পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যাবে। রুমিন ফারহানার বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে হবে আসলে সেখানে কী হয়েছিল।

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে চ্যালেঞ্জ : আগামী নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিসরে চালু হবে পোস্টাল ব্যালট। কিন্তু শুরু থেকেই এ ব্যবস্থাকে ঘিরে বিতর্কে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি বাহরাইন, সৌদি আরব ও কুয়েতে পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ে ইসি। সেখানে একটি বাসায় অনেক ব্যালট পেপারের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। 

এরপর পোস্টাল ব্যালট ও ব্যালটে ধানের শীষের প্রতীক বিন্যাস নিয়ে আপত্তি তুলে ইসির কাছে ব্যাখ্যা চায় বিএনপি। প্রতীক নিয়ে দেশে ও বিদেশে একই ধরনের পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত, ব্যালটে প্রার্থীর নাম ও ছবি না থাকা, প্রতীক বিন্যাস এবং ব্যালট ভাঁজে নির্দিষ্ট প্রতীক আংশিক ঢেকে যাওয়ার অভিযোগসহ সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ভোটব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। 

টানা সমালোচনা ও বিএনপির আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছে নির্বাচন কমিশন। দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে ভোটারদের জন্য আসনভিত্তিক প্রার্থীদের নামসহ প্রতীক সংযোজন করে আলাদা করে পোস্টাল ব্যালট ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দেশে-বিদেশে একই ব্যালটে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে কমিশন।

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি ইস্যুতে উত্তেজনা :
সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা ঘোষণা নিয়ে সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। 

এ বিষয়ে গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন মামুন হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ এবং ১৯৭২ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী কোনো বিদেশি নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। 

সংবিধান অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের পর একজন ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হন। এ ছাড়া হাইকোর্ট বিভাগের ১৬৪৬৩/২০২৩ নম্বর রিট পিটিশনের আদেশে বলা হয়, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারী ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত হবেন। শুধু আবেদন দাখিল করাই নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়। এই আদেশ বর্তমানে আপিল বিভাগেও বহাল রয়েছে। 

সম্প্রতি আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীদের কাছ থেকে কেবল একটি ‘অঙ্গীকারনামা’ গ্রহণ করছে। যেখানে প্রার্থীরা উল্লেখ করছেন যে, তারা নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছেন এবং তা প্রক্রিয়াধীন। এই প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে কমিশন তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করছে, যা স্পষ্টত সংবিধান এবং হাইকোর্টের রায়ের পরিপন্থী। এ ছাড়া অনেক প্রার্থীর ঋণখেলাপি স্ট্যাটাস থাকার পরও ছাড় পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত, এনসিপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা।

পক্ষপাতের অভিযোগ বিএনপির :
পোস্টাল ব্যালট পেপারে অনিয়ম, জামায়াতকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারসহ তিনটি অভিযোগের প্রতিবাদে গতকাল ইসির সামনে দিনভর ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। এরপর সন্ধ্যায় ইসি সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। 

এদিকে সন্ধ্যায় সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কূটকৌশলের অভিযোগ তুলে বিএনপি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছে দলটি। একই সঙ্গে দলটির প্রতি ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

তিনি বলেন, অন্য সময় দেশে কেয়ারটেকার সরকারের সময় যে নির্বাচনগুলো হয়েছিল সেখানেও একই অবস্থা দেখা যায়নি। তারা শক্ত অবস্থানে ছিল। যারা এরই মধ্যে প্রচার শুরু করেছে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে হবে। না নিলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। আইনশৃঙ্খলার কোনো গাফলতি থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। প্রতিটি আসনে ম্যাজিস্ট্রেট আছে, রিটার্নিং কর্মকর্তা আছে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে তারপরও কেউ মানছে না। সবাইকে নির্বাচনে সহযোগিতা করতে হবে কারণ বাংলাদেশের সামনে নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প অপশন নেই।

ইসির বক্তব্য : সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সময়ের আলোকে বলেন, ভালো নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ নির্বাচন কমিশন কোনো কলঙ্ক নিয়ে যেতে চায় না। নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনো শঙ্কা দেখছি না। নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে যে সংশয় আছে আশা করি তা দূর হয়ে যাবে। 

তিনি বলেন, যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে তাদের শোকজ দেওয়া হচ্ছে। আর নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো তো তাদের দাবি তুলবেই, যেহেতু তারা আমাদের প্রধান স্টেকহোল্ডার, এটিকে আমরা স্বাভাবিকভাবেই দেখছি।

সময়ের আলো/এআর

  বিষয়:   ইসি  ভোট 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: