কনসার্টে সিগারেট বিতরণ ও স্লোগান নিয়ে সমালোচনা

ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গত শনিবার শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ‘কুয়াশার গান’ নামক কনসার্টে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনায়

2026-01-19T04:03:59+00:00
2026-01-19T04:03:59+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
কনসার্টে সিগারেট বিতরণ ও স্লোগান নিয়ে সমালোচনা
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৩ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গত শনিবার শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ‘কুয়াশার গান’ নামক কনসার্টে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। 

কেননা ‘স্পিরিটস অব জুলাই’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) যৌথ আয়োজনে কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই কনসার্টে শুধু ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ যুক্ত ছিলেন বলে দাবি অন্যান্য ডাকসু প্রতিনিধির। এদিকে কনসার্টে মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ গণভোটের পক্ষে প্রচার চালালে তার স্লোগানের বিপরীতে ব্যঙ্গ করে কিছু স্লোগান ওঠে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ কনসার্টস্থলের মুখে বসানো হয় সিগারেট স্টল ‘ম্যাক্সিম’। সেখানে নিজেদের প্রচার হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা করছেন শিক্ষার্থীরা।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) ধারা ৫(খ) বলছে, তামাকজাত দ্রব্য কিনতে প্রলুব্ধ করে, এমন কোনো কাজ করাই নিষিদ্ধ। বিনামূল্যে বিতরণ কিংবা স্বল্পমূল্যে বিক্রিও এর আওতাতেই পড়ে। ধারা ৫(গ) অনুযায়ী, তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বা এর ব্যবহার উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে কোনো দান, পুরস্কার, বৃত্তি প্রদান বা কোনো অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার বহনও অপরাধ। 

এই ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধানও আছে বিদ্যমান আইনে। অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই প্রচারও আইনত অবৈধ। আইনের ৬(খ) ধারা অনুসারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশুপার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করলে শাস্তি হবে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড।

এই ঘটনার পর সামাজিকমাধ্যমে উঠে সমালোচনার ঝড়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসান মাহিন ফারাবি সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট করে লিখেন, ডাকসু আজকের কনসার্টে আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির অত্যাধুনিক দোকান বসিয়ে ছেলেমেয়েদের সিগারেট-মাদক সেবন করার এন্তেজাম করেছে। 

ছিন্নমূল বা পাগল লোকজন মাদক সেবন করলে ক্যামেরা নিয়া এবি জুবায়ের আর লাঠি হাতে সর্বমিত্র এসে মাদক নির্মূলের নাটক করবে কিন্তু ওইটা পাওয়ারফুল কোনো কোম্পানির তরফ থেকে আসলে নম নম কইরা ক্যাম্পাসে ওদের জায়গা করে দেবে। ছোটলোকদের মধ্যে টাকাওয়ালা বড়লোকদের প্রতি একটা দাসত্বসুলভ মনোভাব সবসময়ই থাকে। 

এই ঘটনার সমালোচনা করেছে ডাকসুর অন্যান্য প্রতিনিধিরাই। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির জানান, কুয়াশার গান কনসার্টে মাদকের যে প্রচারটা হলো এবং তাতে ডাকসুর সংশ্লিষ্টতার জন্য লজ্জিত হচ্ছি। এই কনসার্ট সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক নামিয়েছেন। 

আমি জানি না এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের কী কল্যাণ করেছেন। শিক্ষাঙ্গনে মাদকের প্রচার কেন হলো এই প্রশ্নের উত্তর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদককে দিতে হবে। আদর্শ ক্যাম্পাস গড়ার যে প্রত্যয় নিয়ে আমরা আগাচ্ছি তার সঙ্গে এই ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বিপরীত।

ডাকসুর কার্যনির্বাহী শাহীন ফেসবুকে লিখেছেন, ধূমপান এবং মাদককে না বলি। আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল ফিল্ডে আয়োজিত ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টে সিগারেট প্রমোশন এবং সিগারেট কোম্পানির স্পন্সরশিপ নেওয়া, পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনে সিগারেট প্রমোট করার দায়ে আয়োজকদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

শহিদ ওসমান হাদি হলের ভিপি মুসলিমুর রহমান এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, কুয়াশার গান কনসার্ট আয়োজকরা সিগারেটকে প্রমোট করার কারণে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। যেখানে আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণের স্বার্থে হলগুলোকে সিগারেটসহ মাদক মুক্ত করার কাজ করছি সেখানে এহেন কর্মকাণ্ড তাদের কাছে কখনো প্রত্যাশিত না। 

সর্বোপরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজকের এমন আয়োজনে ঘৃণা দেখিয়েছে। আয়োজক নেতাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান রইল।

এদিকে সমালোচনার মধ্যেই ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক ফেসবুকের এক পোস্টে বলেছেন, স্মোকিংয়ের বিষয়টি তার অজান্তেই হয়েছে। এটা নিয়ে তিনি ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেন পোস্টে।

এদিকে কনসার্টে উপস্থিত হয়ে মোসাদ্দিক আলী গণভোটের পক্ষে যে প্রচার চালান ও স্লোগান দেন তাতে ব্যঙ্গ করে কিছু স্লোগান ওঠে। মোসাদ্দিক ‘কোটা না মেধা’ স্লোগান দিলে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ‘কোটা, কোটা’ বলা হয়। একইভাবে ‘গোলামি না সংস্কার’ স্লোগানে ‘গোলামি, গোলামি’, ‘আপস না সংগ্রাম’ স্লোগানে ‘আপস, আপস’ বলে পাল্টা স্লোগান দেওয়া হয়। এ ছাড়া মোসাদ্দিকের ‘তুমি কে, আমি কে’ স্লোগানের বিপরীতে শিক্ষার্থীরা ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’ বলে ব্যঙ্গ করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ডাকসু নেতা মোসাদ্দিক তার বক্তব্যে বলেন, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পাহাড়ে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা দিয়ে ভারতকে অসংখ্যবার ‘উড়িয়ে দেওয়া’ সম্ভব। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছেন তিনি।

ব্যঙ্গাত্মক স্লোগানের ব্যাপারে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক বলেন, ডাকসুর আয়োজনে সিগারেটের বিতরণ যেমন কাম্য না তেমন গোলামি না আজাদি স্লোগানের বিপরীতে গোলামি করতে চাওয়াও কাম্য না। একটা দিয়ে আরেকটারে কাউন্টার করে নিজেদের ভুল জাস্টিফাই করা বন্ধ করেন উভয় পক্ষ।

সময়ের আলো/এআর

  বিষয়:   কনসার্ট  সিগারেট  স্লোগান  সমালোচনা 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: