প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৯ এএম
সংগৃহীত ছবিওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান বাংলাদেশি উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সরোদ বাদক। ১৯৩১ সালের ১৯ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে উপমহাদেশের এক প্রখ্যাত সংগীত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ একজন প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী এবং মাতা উমর উন-নেসা।
তার চাচা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ উপমহাদেশের অন্যতম একজন সংগীতজ্ঞ। ছয় ভাইবোনের মধ্যে বাহাদুর পঞ্চম। তার বড় তিন বোন আম্বিয়া, কোহিনূর ও রাজিয়া এবং বড় ভাই প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ আবেদ হোসেন খান ও ছোট ভাই সংগীত গবেষক ও লেখক মোবারক হোসেন খান।
বাহাদুর হোসেন খান পরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী শৈশব থেকে সংগীত সাধনায় মগ্ন হন। পিতার হাতেই তার সরোদের হাতেখড়ি হয়। সংগীতে উচ্চশিক্ষার জন্য পিতা তাকে মাইহারে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তার চাচা আলাউদ্দিন খাঁর কাছে দীর্ঘ ২০ বছর সরোদের তালিম গ্রহণ করেন।
১৯৪৯ সালে তিনি বাংলাদেশ বেতারের শিল্পী হিসেবে যোগ দেন। সেখানে দুই বছর থাকার পর ১৯৫১ সালে বম্বে চলে যান। সেখানে তিনি নৃত্যশিল্পী শান্তি বর্মণের ‘লিটল ব্যালে ট্রুপ’-এর সংগীত পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তার কয়েকটি লংপ্লেসহ অন্যান্য রেকর্ড প্রকাশ হয়েছে।
তিনি ১৯৬০ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত মেঘে ঢাকা তারা চলচ্চিত্রে জ্যোতিরিন্দ্র মিত্রের সহকারী সংগীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুবর্ণ রেখা দিয়ে চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে নতুন পাতা চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনার জন্য তিনি বিশেষ সম্মান লাভ করেন।
এ ছাড়া সুর ও সংগীত পরিচালনায় তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো ত্রিসন্ধ্যায়, যেখানে দাঁড়িয়ে, শ্বেত ময়ূর, তিতাস একটি নদীর নাম, গার্ম হাওয়া, যুক্তি তক্কো আর গপ্পো, অমাবস কি চান্দ। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও যামিনী রায়ের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের আবহসংগীত পরিচালনা করেন।
তিনি কয়েক বছর কলকাতা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় আলী আকবর কলেজ অব মিউজিকে ভারতীয় শাস্ত্রীয়সংগীত বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৯ সালের ৩ অক্টোবর তিনি মারা যান।
সময়ের আলো/এআর