উত্তরের হিমালয়কন্যা পঞ্চগড় এখন শীতলতম অঞ্চল হিসেবে দখলে। টানা দুই সপ্তাহ ধরে শৈত্যপ্রবাহিত বইছে এ অঞ্চলের উপর দিয়ে। মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত পরিস্থিতি তৈরি করেছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। আয়-রোজগার কমে যাওয়া ও শীতে রোগব্যাধি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবার নিয়ে অভাব-অনটনে দিন কাটছে তাদের।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় রেকর্ড একই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রেকর্ড হয়েছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার রেকর্ড হয়েছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ৯ জানুয়ারি হতে ১৬ জানুয়ারি দেশের সর্বনিম্ন ও গত ৬ জানুয়ারি হতে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে উত্তরের এ জেলায়।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত দিনের মতোই ভোরের কুয়াশা ভেদ করে রুপালি আলো নিয়ে জেগে উঠেছে পুবালি সূর্য। সূর্যের রোদ ছড়ালেও হিম বাতাসের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে রোদের সেই উষ্ণতা। কিন্তু জীবিকার কাছে হার মানছে মাঘের এই শীতের তীব্রতা। জীবিকার তাড়নায় তীব্র শীত উপেক্ষা করেই সকাল সকাল কাজে বেরিয়েছেন দিনমজুর, চা শ্রমিক ও পাথর শ্রমিকরা। তার কেউ নদীর বরফ জলে নামছেন পাথর তুলতে, কেউ চা বাগানে কিংবা কেউ কৃষি কাজে ছুটছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো। তারা জানাচ্ছেন, শীত যতো তীব্রই হোক, কাজে তাদের যেতেই হবে। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছেন এমনই অভিযোগ শতশত নিম্ন আয়ের মানুষের।
জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, উত্তরের এ জেলায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে। আজ সোমবার ভোর ৬টায় রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গতকাল থেকে সামান্য বেড়েছে তাপমাত্রা। গত ৯ জানুয়ারি হতে ১৬ জানুয়ারি দেশের সর্বনিম্ন ও গত ৬ জানুয়ারি হতে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে উত্তরের এ জেলায়। তবে দিনের তাপমাত্রা ২৭ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনভর রোদ থাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। তবে তাপমাত্রার এই ওঠানামার কারণে শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
সময়ের আলো/জেডআই