খুলনায় এক যুবলীগ নেতার একটি বাড়িতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা পরিচয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন নেসার উদ্দিন সড়কের একটি বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, আল নাঈম ও মিরাজ গাজী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়রা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম খুলনার সোনাডাঙ্গায় নেসার উদ্দিন সড়কের ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। একাধিক মামলার আসামি শফিকুল ইসলাম গত পাঁচ আগস্টের পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
সোমবার দুপুরে তিন ব্যক্তি প্রথমে বাসা ভাড়া নেয়ার কথা বলে যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলামের বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা নিজেদের একজন এনসিপি সদস্য পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, সেখানে আওয়ামী লীগের এক নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। এ সময় তারা শফিকুল ইসলামের মেয়ে শাহনাজ পারভীনের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
কৌশলে শাহনাজ পারভীন বিষয়টি সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শাহনাজ পারভীন বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। এ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।
সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে এনসিপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে দলটি।
এনসিপির খুলনা জেলা সমন্বয়ক মো. ফায়েজুল্লাহ জানান, আটক তিনজনের কেউই এনসিপির সদস্য নন। আন্দোলনের সময় একজনকে রাজপথে দেখা গেলেও দলীয়ভাবে তাদের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
পরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনায় সম্পৃক্তদের কেউ এনসিপির সদস্য নয়। এদের কারও সঙ্গে এনসিপির কারও কোনো সম্পর্ক নেই।
এফআর