চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় শোক যেন নেমে এসেছে নিঃশব্দে। একটি কফিন ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট এক শিশুর অবুঝ প্রশ্নে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। ‘আমার বাবা মাটির নিচে কেমনে থাকবে? আমার বাবার কী দোষ ছিল?’
র্যাব-৭ এর নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে তার ছোট মেয়ে ইসরাত জাহান মুনতাহা বারবার একই প্রশ্ন করছে। বাবার কফিনের দিকে তাকিয়ে থাকা শিশুটির চোখে শুধু বিস্ময় নয়- আছে এক গভীর শূন্যতা, যা কোনো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতা সে বুঝতে পারেনি, তবু তার কান্না ছুঁয়ে যাচ্ছে উপস্থিত সবার হৃদয়।
একদিকে শিশুর আর্তনাদ, অন্যদিকে শহিদ র্যাব সদস্যের স্ত্রীর আহাজারি। এই দুই বেদনাই যেন চট্টগ্রামের আকাশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। স্বামীর কথা বলতে গিয়ে বারবার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছিল তার। চোখ ভেজা, কণ্ঠ কাঁপা এই কান্না শুধু একজন স্বামী হারানোর বেদনা নয়, এ যেন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করা এক যোদ্ধার পরিবারের নীরব আর্তনাদ।
তিনি বলেন, ‘আব্দুল মোতালেব শুধু একজন র্যাব সদস্য ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন স্নেহশীল স্বামী, দায়িত্বশীল বাবা এবং আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা।’ কান্নার ফাঁকে ফাঁকে তার প্রশ্ন- রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা জীবন দেয়, তাদের পরিবারের এই শূন্যতার দায় কে নেবে?
র্যাব সূত্র জানায়, মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া ছিলেন একজন অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি করেছেন জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়- পুরো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
শহিদ র্যাব সদস্যের জানাজার প্রস্তুতি চলছে। সহকর্মী, স্বজন ও নানা শ্রেণিপেশার মানুষ ফুল হাতে কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। কফিনে ফুল দিতে দিতে অনেকের চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠছে।
কিন্তু সবার হৃদয় সবচেয়ে বেশি কাঁপিয়ে দিচ্ছে শিশু মুনতাহার সেই প্রশ্ন- ‘আমার বাবার কী দোষ ছিল?’
সময়ের আলো/কেএইচও