প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৩ এএম
প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স গণভোটের প্রচারে ব্যবহার করেছে নাটোর পৌর কর্তৃপক্ষ। ছবি : সময়ের আলো চার বছর আগে দেওয়া ভারত সরকারের উপহারের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স ভোটের গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল নাটোরে। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক লাইফ সাপোর্ট (আইসিইউ) অ্যাম্বুলেন্সটি নাটোর পৌরবাসীর দ্রুত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত সরকার উপহার হিসেবে দিয়েছিল। কিন্তু মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচানোর কাজে ব্যবহার না করে এটি ভোটের গাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। নির্বাচন সামনে রেখে বাহনটি ব্যস্ত ছিল গণভোটের প্রচারে। নাটোর পৌর কর্তৃপক্ষ এটিকে ভোটের গাড়িতে রূপান্তর করায় পৌরবাসীর মধ্যে দেখা দেয় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ। আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠলে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় অ্যাম্বুলেন্সটি।
সরেজমিন দেখা যায়, অত্যাধুনিক এই অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে নির্বাচনি স্টিকার সাঁটানো হয়েছে। ছাদের ওপরে স্থাপন করা হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে এটি এখন গণভোটের প্রচার করে বেড়াচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, অথচ গত চার বছর ধরে দক্ষ জনবল সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার অজুহাতে এই বাহনটি বন্ধ ছিল। অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার দামি বাহনটি কোনো কাজেই আসেনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এস এইচ এম মাগ্ফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কথা বলে জানাতে পারব।
নাটোর পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, পৌরসভায় এসে দেখি অ্যাম্বুলেন্সে ভোটের স্টিকার লাগানো। অ্যাম্বুলেন্স হঠাৎ ভোটের গাড়িতে রূপান্তরের বিষয়ে আগে থেকে পৌর কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়নি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের শুরুর দিকে ভারত সরকার বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে নাটোর পৌরসভা, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে মোট তিনটি অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি নাটোর পৌরসভা প্রাঙ্গণে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটি নাটোর পৌর মেয়রের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন। শুরুতে এটি নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আশা তৈরি হলেও, গত চার বছর কোনো সেবা মেলেনি। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, এই বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ টেকনিশিয়ান ও জনবল নেই। পাশাপাশি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের তুলনায় এর ভাড়াও নির্ধারণ করা হয়েছিল বেশি। ফলে গ্যারেজেই অলস পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল কোটি টাকার এই সম্পদ। অথচ এখন দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে জনগণের সেবায় ব্যবহারের পরিবর্তে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা হচ্ছে নির্বাচনি প্রচারে। জীবন রক্ষাকারী একটি বাহনকে এভাবে নির্বাচনি কাজে ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া স্থানীয়রা। শহরের মল্লিকহাটি এলাকার বাসিন্দা টিপু সুলতান বলেন, ভারত সরকার এটি দিয়েছে মানবতার সেবার জন্য, ভোটের প্রচারের জন্য না। এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী কাজ।
শহরের কানাইখালী এলাকার ব্যবসায়ী শামসুল আলম বলেন, অ্যাম্বুলেন্স মানেই জীবন বাঁচানোর বাহন। জনবল নিয়োগ দিয়ে এটি মানুষের সেবায় ব্যবহার করা যেত। এটা যদি ভোটের কাজে ব্যবহার হয় তা হলে অসুস্থ মানুষ যাবে কোথায়?
সময়ের আলো/এনএ