২০ আসনে ২৭ জনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংসদ নির্বাচনের তফসিল, মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, আপিল শুনানি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবে

2026-01-21T03:04:35+00:00
2026-01-21T03:04:35+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
২০ আসনে ২৭ জনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৪ এএম   (ভিজিট : ১৫৪)
সংগৃহীত ছবি
সংসদ নির্বাচনের তফসিল, মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, আপিল শুনানি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ভোটযুদ্ধ ও প্রচার-প্রচারণা, যা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এরপর ১২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হবে কাক্সিক্ষত গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। 

গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই পর্ব। এতে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ফলে ৩০০ আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৪২ জন। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেন ৬৪৫ জন। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ৯ দিনের আপিল শুনানির পর ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্ব, এক শতাংশ ভোটের সমর্থনে গরমিল, হলফনামায় অসঙ্গতি ও মনোনয়নপত্র দাখিলে ত্রুটির কারণে আপিল কমিশন ২০০ জন প্রার্থীকে অবৈধ ঘোষণা করে। তবে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে (বাতিল-গ্রহণ) প্রার্থিতা ফিরে পান ৪১৮ জন। এ ছাড়া আপিল আবেদন প্রত্যাহার ও অনুপস্থিতির কারণে বাকি ২৭ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। সংক্ষুব্ধরা নির্বাচনে অংশ নিতে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আপিল শুনানি শেষে মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়ায় ২ হাজার ২৫৩ জন। এর মধ্য থেকে গত দুদিনে অনেকেই ভোটের মাঠ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ঢাকার ২০টি আসন থেকে ২৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। মঙ্গলবার ঢাকার তিনটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

সারা দেশে সব মিলিয়ে কতজন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, আজকে (মঙ্গলবার) বিকাল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়। তারপর সারা দেশ থেকে তথ্য আসবে, সেগুলো কম্পাইল করতে আমাদের সময় লাগবে। আগামীকাল (বুধবার) এটির তথ্য জানা যাবে। এদিকে আজ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে প্রচার-প্রচারণা। 

প্রচার-প্রচারণায় মানতে হবে যেসব বিধিনিষেধ : সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমেই প্রচার চালাবেন প্রার্থীরা। তবে এ ক্ষেত্রে মানতে হবে বেশ কিছু নির্দেশনা। সেগুলো না মানলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থিতাও বাতিল হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইনে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীকে সাতটি নির্দেশনা মানতে হবে। এগুলো হলো- একজন প্রার্থী তার নির্বাচনি এজেন্ট বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ফেসবুক বা অন্যান্য যেসব প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালাবেন সেগুলোর নাম, আইডি, ই-মেইল ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। নির্বাচনি প্রচারে কোনোভাবেই অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো, ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, কারও ছবি বিকৃতি করা বা ভুয়া কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনো রকম ঘৃণামূলক, উসকানিমূলক কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতিকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা যাবে না। নির্বাচনি স্বার্থে ধর্ম বা জাতির অপব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো পোস্ট বা তথ্য শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা বাধ্যতামূলক। গুজব, বিভ্রান্তিকর পোস্ট কিংবা যাচাই না করা তথ্য প্রচার করা যাবে না। প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো দল, প্রার্থী বা তাদের সমর্থকরা কারও সুনাম নষ্ট বা চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি, সম্পাদনা, প্রচার বা শেয়ার করতে পারবেন না। এসব ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ থাকবে। 

এ ছাড়া অফলাইন বা সরাসরি প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো দল বা প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশে জনসভা, পথসভা, সভা-সমাবেশ বা কোনো প্রচার চালাতে পারবেন না। পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। একজন প্রার্থী তার সংসদীয় আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না এবং এর দৈর্ঘ্য হবে সর্বোচ্চ ১৬ ফুট আর প্রস্থ ৯ ফুট। নির্বাচনের দিন ও প্রচারের সময় ‘কোয়াডকপ্টার’ বা এ জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠান ভোটার সিøপ বিতরণ করতে পারবেন। তবে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম ও প্রতীক উল্লেখ করতে পারবেন না। যেগুলো ডিজিটাল বিলবোর্ড, শুধু সেগুলোতে আলো ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুতের ব্যবহার করা যাবে। তবে আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেটে পলিথিনের আবরণ নয়, প্লাস্টিক (পিভিসি) ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। 

ভোটের প্রচারে ড্রোন ব্যবহার করা যাবে না। একমঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা ও আচরণবিধি মানতে প্রার্থী ও দলের অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরও যোগ করা হয়েছে। ফলে তারা প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামতে পারবেন না। আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্তসাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে ইসির। 

জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে নির্বাচনি অনিয়ম অনুসন্ধান ও অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’ গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খাবাহিনী মাঠে নামানো হবে। 

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ সময়ের আলোকে বলেন, বুধবার প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে আর অফিসিয়ালি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে। কিন্তু অনেকে প্রতীক পাওয়ার পরই প্রচার শুরু করে। সেটি আমরা না চাইলেও করে। তবে ২২ জানুয়ারি থেকেই করা উচিত। তবে প্রতীক বরাদ্দের পর কেউ যদি আচরণবিধি না মানেন সে ক্ষেত্রে ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের শাস্তি দেবেন। আইনি সব ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি আছে আমাদের। 

তিনি বলেন, আমরা দেড় মাস আগে তফসিল ঘোষণা করেছি এ পর্যন্ত এক মাস হয়ে গেল আমরা গুরুতর তেমন কিছু দেখিনি। প্রচারের মাঠে কিছু হবে কি না সেটি হাইপোথিথেটিক্যাল। আশা করি, সব দলই সংযত আচরণ বজায় রাখবেন। যে যার মত প্রকাশ করবেন। পরস্পরের মধ্যে যেন কোনো সংর্ঘষ না হয়, একে অন্যের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে। আমার মনে হয় এ নির্বাচনে সেটি তারা করেছেন। 

সময়ের আলো/এনএ 

  বিষয়:   ২০ আসন  ২৭ জন  প্রার্থিতা প্রত্যাহার 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: