সৌরঝড়ের আঘাতে আকাশে রঙিন আলোর ঝলকানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সোমবার ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চল পোর্টসলে রাতের আকাশে চোখ ধাঁধানো রঙিন আলো দেখা গেছে। এটি কোনো সাধারণ আলো নয়, এটি সূর্যের একটি

2026-01-21T12:14:52+00:00
2026-01-21T12:17:25+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
সৌরঝড়ের আঘাতে আকাশে রঙিন আলোর ঝলকানি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম  আপডেট: ২১.০১.২০২৬ ১২:১৭ পিএম
উত্তর মেরুজ্যোতি (অরোরা) ১৯ জানুয়ারি ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চল পোর্টসালে দেখা গেছে। সংগৃহীত ছবি
সোমবার ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চল পোর্টসলে রাতের আকাশে চোখ ধাঁধানো রঙিন আলো দেখা গেছে। এটি কোনো সাধারণ আলো নয়, এটি সূর্যের একটি শক্তিশালী সৌর ঝড়ের প্রভাব। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সৌর ঝড়।

সৌর ঝড় কী?

সূর্য থেকে মাঝে মাঝে প্রচণ্ড শক্তিশালী চার্জযুক্ত কণা ছুটে আসে, যা পৃথিবীর দিকে আসে। এই কণার ধাক্কাকেই আমরা সৌর ঝড় বলি। যখন কণাগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষ করে, তখন আকাশে নানাভূর্ন আলো নাচতে থাকে, যা আমরা অরোরা বা মেরুজ্যোতি হিসেবে দেখি। উত্তর গোলার্ধে এটি ‘অরোরা বোরিয়ালিস’, আর দক্ষিণ গোলার্ধে ‘অরোরা অস্ট্রালিস’ নামে পরিচিত।

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার (এসডব্লিউপিসি) জানিয়েছে, এই ঝড়ের তীব্রতা ছিল পাঁচের মধ্যে চার। এটি ২০০৩ সালের অক্টোবরের ‘হ্যালোইন স্পেস ওয়েদার স্টর্ম’-এর পর সর্বাধিক শক্তিশালী। সেই সময়ের ঝড়ের প্রভাবে সুইডেনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।



মানুষ ও প্রযুক্তির উপর প্রভাব

যখন সৌর ঝড় পৃথিবীতে পৌঁছায়, তখন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের নভোচারীরা, আর্কটিক অঞ্চলের উপরের রুটে উড়ে চলা বিমানের যাত্রীরা এবং স্যাটেলাইটগুলো ঝুঁকিতে পড়ে। এজন্য মহাকাশচারীরা ঝড় চলাকালীন সময়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন। বিমান ও স্যাটেলাইট পরিচালন সংস্থাগুলোও পূর্বেই সতর্ক থাকে।

এসডব্লিউপিসি জানিয়েছে, সোমবার এই ঝড়ের কারণে কিছু জিপিএস ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি।


কেন আকাশে রঙিন আলো দেখা যায়?

সূর্য থেকে আসা শক্তিশালী কণাগুলো যখন পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে সংঘর্ষ করে, তখন বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া ঘটে। এর ফলে আকাশে নানাভূর্ন রঙের আলো নাচতে থাকে। অরোরা সাধারণত ২০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বিস্ফোরণের মাধ্যমে তীব্র হয়ে ওঠে এবং আমাদের চোখের সামনে প্রকাশ পায়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর অর্ধেক এবং দক্ষিণের কিছু অংশেও অরোরা দেখা যেতে পারে। কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকনির্দেশের কারণে সেখানে বড় ধরনের অরোরা দেখা যায়নি। ইউরোপে রাতের আকাশে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত অরোরা দেখা গেছে, যা স্থানীয়দের মুগ্ধ করেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্যের সক্রিয় অংশ থেকে আরও শক্তিশালী শিখা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে যদি আরও কোনো বিস্ফোরণ ঘটে, তাহলে পৃথিবীর আকাশে আরও রঙিন অরোরা দেখা যেতে পারে।

এই সৌর ঝড় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমরা কতটা মহাকাশের সঙ্গে যুক্ত। পৃথিবীর চারপাশের প্রযুক্তি—স্যাটেলাইট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, এমনকি আকাশের দৃশ্য—সবই সূর্যের ক্ষুদ্র কণার প্রভাবে প্রভাবিত হতে পারে। তবে এই ঝড়ের রঙিন আলোর খেলা আমাদের আবারও প্রকৃতির অদ্ভুত ও সুন্দর শক্তির কাছে মুগ্ধ করে।

/ইউএমএইচ 


  বিষয়:   অরোরা  সৌরঝড় 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: