পাকিস্তান এভিয়েশন অথরিটি (পিএএ) ভারতের নিবন্ধিত সকল বিমানের আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে চলমান নিষেধাজ্ঞা আরও এক মাস বাড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন অফিসিয়াল নোটিশে বলা হয়েছে, ভারতীয় এয়ারলাইন্সের মালিকানাধীন, পরিচালিত বা লিজকৃত সকল বিমান—সামরিক বা বেসামরিক—পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।
এই নিষেধাজ্ঞা চলতি বছরের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু অস্ত্রধারী সংঘর্ষের পর প্রথমবার কার্যকর করা হয়। যদিও মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, আকাশসীমার বিধিনিষেধ এখনো চলছেই। গত মাসে, পিএএ এই নিষেধাজ্ঞা ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছিল এবং কূটনৈতিক আলোচনা থাকা সত্ত্বেও এটি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছিল।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলি দীর্ঘ রুটে উড়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইটগুলোর জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করা যেত না। ফলে দীর্ঘ ঘুরে যাওয়া রুট এবং অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের কারণে প্রতিটি ফ্লাইটে প্রায় ২৯% বেশি জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে।
ভ্রমণের সময়ও প্রায় তিন ঘণ্টা বেড়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার হিসাব অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের বার্ষিক মুনাফা ৪৫৫ মিলিয়ন ডলার কমে গেছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৪৩৯ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতির চেয়ে বেশি। প্রতি সপ্তাহে এয়ারলাইন্সের ক্ষতি প্রায় ১.১৩ মিলিয়ন ডলার।
এয়ার ইন্ডিয়াকে এমনকি চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের সংবেদনশীল সামরিক আকাশসীমার ব্যবহার নিয়ে ভারত সরকারের কাছে তদবির করতে হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ রুট এবং খরচের চাপ কিছুটা কমানো যায়।
পাকিস্তানের এই নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রতিফলন। সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও পরমাণু অস্ত্রধারী অবস্থার কারণে আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেও অচল রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে পাকিস্তানের আকাশসীমা না খোলা পর্যন্ত ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর জন্য পরিচালনাগত ও আর্থিক চাপ চলতেই থাকবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এয়ার ইন্ডিয়ার মতো বড় বিমান সংস্থাগুলো সরকার থেকে অস্থায়ী ভর্তুকি ও রুট পরিবর্তনের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘ সময় এই পরিস্থিতি সামলাতে পারবে না। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রুটের অপ্টিমাইজেশন এবং জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা জরুরি হয়ে উঠেছে।
/ইউএমএইচ