ইউক্রেন সীমান্তে তীব্র উত্তেজনার পারদ চড়ার মধ্যে কিয়েভকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। নিজের দেশকে কোনোভাবেই রাশিয়ার সাথে চলমান এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে টেনে না নেওয়ার জন্য ইউক্রেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক টেলিভিশন ভাষণে লুকাশেঙ্কো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বেলারুশকে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করা হলে চলমান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি মুহূর্তের মধ্যেই সম্পূর্ণ বদলে যাবে।
ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়া এবং রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের গভীরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পটভূমিতে এই নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার অভিযোগ করে আসছিলেন, মস্কো বেলারুশকে সরাসরি রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে নামাতে চাইছে।
গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বেলারুশ সীমান্তের কিছু ড্রোন সিগন্যাল রিলে (পুনঃসংকেত প্রেরণকারী) স্টেশন অচল করার হুমকি দিয়ে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দেন। তার অভিযোগ ছিল, এই স্টেশনগুলো ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় সহায়তা করছে। জেলেনস্কি হুমকি দিয়েছিলেন, ২৬ জুনের মধ্যে বেলারুশ নিজে থেকে এগুলো না সরালে ইউক্রেনীয় বাহিনী সেখানে হামলা চালাবে। গতকাল বুধবার জেলেনস্কি দাবি করেন, স্টেশনগুলো কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে, যদিও এর কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে সত্যতা মেলেনি।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র লুকাশেঙ্কো আজ নিশ্চিত করেছেন, সম্প্রতি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য মিনস্কে এসেছিল।
ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সাথে হওয়া আলোচনার সূত্র ধরে লুকাশেঙ্কো বলেন, আমি তাদের সরাসরি বলেছি— তোমাদের প্রেসিডেন্টকে গিয়ে বলো, তিনি যদি ভাবেন আমাদের সাথে এভাবে কথা বলবেন এবং আমাদের যুদ্ধে টেনে আনবেন, তবে মনে রাখবেন যুদ্ধের ধরন কিন্তু এক নিমেষেই বদলে যাবে।
তিনি আরও যোগ করেন, ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের সাথে যুদ্ধ করার কোনো ইচ্ছা বেলারুশের নেই। জবাবে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলও বিষয়টি বুঝতে পেরেছে বলে তাকে আশ্বস্ত করেছে। লুকাশেঙ্কো এখন কিয়েভের সাথে এই বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত ও সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কিয়েভের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/কহু