শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে কাঁপছে ভেনেজুয়েলা। চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ আর স্বজন হারানো মানুষের আহাজারি। দুর্যোগের তীব্রতা কতটা ভয়াবহ, তা ফুটে উঠেছে লা গুয়াইরা শহরের একটি মর্মস্পর্শী ছবিতে। রাজধানী কারাকাসের ফায়ার ফাইটার হুয়ান কার্লোস গোমেজ নিজেই এখন একজন আর্ত স্বজন। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের বিশাল কংক্রিটের স্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি পাগলের মতো খুঁজছিলেন তার নিজের বোন কাতিউস্কা হার্নান্দেজ এবং ভাগ্নে ব্রেট রুডকে। নিজের চোখে দেখা ধ্বংসের বিবরণ দিয়ে গোমেজ বলেন, ওই বহুতল ভবনটি থেকে আমি কেবল একটিমাত্র পরিবারকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে দেখেছি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লুইস পেস ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতিকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, সেখানের সবকিছু একেবারে ওলটপালট হয়ে গেছে। ধ্বংসযজ্ঞের যে চিত্র আমাদের কর্মীরা দেখছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। তিনি উল্লেখ করেন, রেড ক্রস গত ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভেনেজুয়েলায় কাজ করছে, কিন্তু তাদের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন প্রলয়ঙ্কারী ও ভয়াবহ পরিস্থিতি আর কখনো দেখা যায়নি।
আঞ্চলিক পরিচালক লুইস পেস আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে খোদ রেড ক্রসের উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় স্টাফরাও রেহাই পাননি। তাদের নিজস্ব অনেক কর্মী এই ভূমিকম্পে তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। এমনকি ভেনেজুয়েলায় অবস্থিত রেড ক্রসের প্রধান কার্যালয় বা সদর দফতরটিও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা সম্পূর্ণ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সদর দফতর ধসে পড়ায় এবং কর্মীরা নিজেরা বাস্তুচ্যুত হওয়া সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে তারা কাজ থামিয়ে দেননি। খোলা আকাশ বা অস্থায়ী ক্যাম্পে বসেই রেড ক্রসের কর্মীরা স্থানীয় সরকারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদ্ধার অভিযান সচল রেখেছেন।
লুইস পেস জানান, ভেনেজুয়েলা আগে থেকেই একটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেই প্রতিকূলতার কারণেই রেড ক্রস আগে থেকে সেখানে কিছু জরুরি সামগ্রী, যেমন— স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক ‘হাইজিন কিট’ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত বা প্রিপজিশন করে রেখেছিল। আর এই পূর্বপ্রস্তুতির কারণেই ভূমিকম্প আঘাত হানার সাথে সাথেই তারা দ্রুত সাড়া দিতে পেরেছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন জরুরি তহবিল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ লাখ সুইস ফ্রাংক (প্রায় ২৭ কোটি টাকা) বরাদ্দ করেছে। লুইস পেসের মতে, এই অর্থ সাময়িকভাবে কাজে দিলেও ধ্বংসযজ্ঞের যে ব্যাপ্তি, তা কাটিয়ে উঠতে সামনে আরও বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক সাহায্য ও দীর্ঘমেয়াদী তহবিলের প্রয়োজন হবে।
সময়ের আলো/কহু